৯ জুন ২০২৬

কাতার ভিসায় চরম অনিয়ম, বিএমইটি ছাড়পত্র ঘিরে দালাল চক্রের তৎপরতা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ০৯, ২০২৬
কাতার ভিসায় চরম অনিয়ম, বিএমইটি ছাড়পত্র ঘিরে দালাল চক্রের তৎপরতা

বাংলাদেশ থেকে কাতারে শ্রমিক পাঠানোর পুরো ভিসা ও ছাড়পত্র প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চরম অনিয়ম, প্রতারণা ও সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘অসত্যায়িত ভিসা’ বা অসম্পূর্ণ ভিসা ব্যবহার করেই জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে হাজারো কর্মী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।

অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী দালাল চক্র প্রকৃত নিয়োগকারী কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য, বৈধ চাকরির চুক্তি, বেতন কাঠামো এবং কাজের ধরন যাচাই ছাড়াই ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। এই প্রক্রিয়ায় ‘অসত্যায়িত’ বা আংশিক যাচাইকৃত ভিসা ব্যবহার করে বিএমইটি ছাড়পত্র নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কর্মীর কাছ থেকে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যারা অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করছে।

দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক কর্মী কাতারে পৌঁছে নির্ধারিত কোম্পানির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের জন্য প্রতিশ্রুত চাকরি, বেতন কিংবা কাজের পরিবেশ বাস্তবে অনুপস্থিত থাকে। ফলে তারা কর্মহীন অবস্থায় পড়ছেন, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন এবং অনেকে বাধ্য হয়ে অবৈধ অবস্থানে চলে যাচ্ছেন।

পরবর্তীতে এসব কর্মীর একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে আটক, জরিমানা বা ডিপোর্টেশনের শিকার হচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং দেশের শ্রমবাজারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ভিসায় নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম, ঠিকানা, কাজের প্রকৃতি কিংবা বেতনের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। এ ধরনের ভিসা ব্যবহার করেই ছাড়পত্র নেওয়া হচ্ছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএমইটি ছাড়পত্র দেওয়ার আগে ভিসা ও নিয়োগ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ যাচাই না হলে পুরো শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে ভিসা যাচাই প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স, বিদেশি নিয়োগদাতার অস্তিত্ব, কাতার দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসা সত্যায়িত (attestation) হয়েছে কি না এবং নিয়োগ চুক্তিপত্র কঠোরভাবে যাচাই না করলে এই অনিয়ম থামানো সম্ভব নয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের শ্রম রপ্তানির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও কঠোর নজরদারির দাবি জোরালো হচ্ছে।

‘লাশ কাটাছেঁড়া কইরো না’, চিরকুট লিখে কাতার প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ০৯, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়ে কিস্তির চাপ সইতে না পেরে চিরকুট লিখে ওই প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) জেলার কুমারখালী পৌরসভাস্থ ঝাউতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ জুলিয়া খাতুন (২৭) ওই এলাকার কাতার প্রবাসী শাহেদ ইসলাম জাহিদের স্ত্রী। জাহিদ ও জুলিয়া দম্পতির সাত বছর বয়সী তানহা নামে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া চিরকুটে জুলিয়া খাতুন লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমাকে আপনারা সবাই মাফ করে দিবেন। মা তুমি আমাকে মাফ করে দিও। আমি তোমার ভালো মেয়ে হতে পারিনি। তানহাকে তুমি দেখে রেখ।’ ‘আর আমার শেষ ইচ্ছে হলো আমাকে যেন কোনো পুরুষ না দেখে, সেইটা তোমরা দেখো। আর আমার লাশটাকে তোমরা কাটাছেড়া কইরো না। এটাই আমার শেষ ইচ্ছে। তোমরা পুলিশের কাছেও যেও না কেউ। ও মা, তুমি ঠিকই বলেছিলে। আল্লাহর কাছে সবকিছু চাইলেই পাওয়া যায় না। আমাকে মাফ করে দিও।’

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে জাহিদের সঙ্গে জুলিয়ার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তানহা নামের সাত বছর বয়সী এক মেয়ে আছে। প্রায় ছয় মাস আগে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কাতারে পাড়ি জমান জাহিদ। কিন্তু সেখানে চুক্তি অনুযায়ী তিনি কাজ পাননি। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেন না তিনি। তার শাশুড়ি, বাবা ও স্বজনরা মিলে কিস্তির টাকা কমবেশি করে পরিশোধ করেছেন। তবুও দুই মাসের কিস্তির টাকা বকেয়া পড়ে গেছে। সোমবার সকালেই একটি এনজিওর দুই হাজার টাকার কিস্তি পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু সকাল ৭টার দিকে নিজ ঘরে মায়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় মেয়ে তানহা। পরে এরপর স্বজনরা জানালা ভেঙে তাকে নিচে নামিয়ে পানি ঢেলে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জুলিয়ার চাচা রজব আলী বলেন, ‘সংসারে কোনো অভাব ছিল না। তবে জামাই অনেক টাকা ঋণ করে বিদেশ গেছেন। কিন্তু কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী কাজ দেয়নি। সেই কিস্তির চাপ সইতে না পেরে চিঠি লিখে আত্মহত্যা করেছে জুলিয়া।’

জুলিয়ার শ্বশুর ইদ্রিস আলী বলেন, ‘সংসারে কোনো ঝামেলা নেই। কারো সঙ্গে ঝগড়াও নেই। তবে একটাই সমস্যা লোন আছে। এই টাকা আস্তে আস্তে দিচ্ছে। কিন্তু এই মাসে টাকা পাঠাতে পারেনি আমার ছেলে। সকালে ঋণের কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এ ঘটনা ঘটে গেছে।’

কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অর্থনৈতিক দৈন্যতা থেকে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরহাল শেষে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কাতার ভিসায় চরম অনিয়ম, বিএমইটি ছাড়পত্র ঘিরে দালাল চক্রের তৎপরতা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ০৯, ২০২৬
কাতার ভিসায় চরম অনিয়ম, বিএমইটি ছাড়পত্র ঘিরে দালাল চক্রের তৎপরতা

বাংলাদেশ থেকে কাতারে শ্রমিক পাঠানোর পুরো ভিসা ও ছাড়পত্র প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চরম অনিয়ম, প্রতারণা ও সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘অসত্যায়িত ভিসা’ বা অসম্পূর্ণ ভিসা ব্যবহার করেই জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে হাজারো কর্মী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।

অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী দালাল চক্র প্রকৃত নিয়োগকারী কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য, বৈধ চাকরির চুক্তি, বেতন কাঠামো এবং কাজের ধরন যাচাই ছাড়াই ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। এই প্রক্রিয়ায় ‘অসত্যায়িত’ বা আংশিক যাচাইকৃত ভিসা ব্যবহার করে বিএমইটি ছাড়পত্র নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কর্মীর কাছ থেকে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যারা অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করছে।

দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক কর্মী কাতারে পৌঁছে নির্ধারিত কোম্পানির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের জন্য প্রতিশ্রুত চাকরি, বেতন কিংবা কাজের পরিবেশ বাস্তবে অনুপস্থিত থাকে। ফলে তারা কর্মহীন অবস্থায় পড়ছেন, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন এবং অনেকে বাধ্য হয়ে অবৈধ অবস্থানে চলে যাচ্ছেন।

পরবর্তীতে এসব কর্মীর একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে আটক, জরিমানা বা ডিপোর্টেশনের শিকার হচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং দেশের শ্রমবাজারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ভিসায় নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম, ঠিকানা, কাজের প্রকৃতি কিংবা বেতনের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। এ ধরনের ভিসা ব্যবহার করেই ছাড়পত্র নেওয়া হচ্ছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএমইটি ছাড়পত্র দেওয়ার আগে ভিসা ও নিয়োগ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ যাচাই না হলে পুরো শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে ভিসা যাচাই প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স, বিদেশি নিয়োগদাতার অস্তিত্ব, কাতার দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসা সত্যায়িত (attestation) হয়েছে কি না এবং নিয়োগ চুক্তিপত্র কঠোরভাবে যাচাই না করলে এই অনিয়ম থামানো সম্ভব নয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের শ্রম রপ্তানির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও কঠোর নজরদারির দাবি জোরালো হচ্ছে।

সৌদিতে কর্মী নিতে খোলা হয় ভুয়া কোম্পানি: হান্নান মাসউদ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ০৯, ২০২৬
সৌদিতে কর্মী নিতে খোলা হয় ভুয়া কোম্পানি: হান্নান মাসউদ

সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার জন্য ভুয়া কোম্পানি তৈরি করা হয় বলে জানিয়েছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হককে একটি সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তাঁরাই আমাদের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। কিন্তু আমরা বিভিন্ন সংবাদে প্রতিনিয়ত দেখতে পাই প্রবাসীদের নিঃস্ব হওয়ার ঘটনা। আমি কিছুদিন আগে সৌদি আরব গিয়েছিলাম। সেখানে প্রবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে জায়গায় প্রবাসী কর্মীদের নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভুয়া কোম্পানি তৈরি করা হয়, যাদের কোনো অফিস থাকে না। কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকে না, শুধুমাত্র কাগজে-কলমে তাঁদের ঠিকানা থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই ঠিকানা অনুযায়ী ওই কোম্পানির নামে বিভিন্ন চাহিদাপত্র তৈরি করে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে বাংলাদেশ থেকে শত শত শ্রমিককে সেখানে পাঠানো হয়। তাঁরা সেখানে গিয়ে দেখতে পান যে কোনো কোম্পানি নেই। তাঁরাও কোনো চাকরি পান না। আমরা কিছুদিন আগে দেখেছি যে, একজন না খেয়ে রাস্তায় মারা গেছেন।’

কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত ৫ বাংলাদেশি আশঙ্কামুক্ত

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, তারা সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত ৫ বাংলাদেশি আশঙ্কামুক্ত

বুধবার (৩ জুন) ভোরে সংঘটিত এই হামলায় বিমানবন্দরটির ১ নম্বর টার্মিনাল ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো ঘটনায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন।

আহত বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন। তিনি চিকিৎসাধীন প্রবাসীদের সার্বিক চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

হামলায় আহতদের মধ্যে যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকা পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে– শারমিন আখতার (মানিকগঞ্জ): গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন; মো. রাসেল শেখ (ফরিদপুর): হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন; মো. খলিল গাজী (সাতক্ষীরা): হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন; শিরিন আখতার (পটুয়াখালী) ও মো. শরিফুল ইসলাম (ধামরাই, ঢাকা): প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

আহত প্রবাসীরা কুয়েতের ফারওয়ানিয়া হাসপাতাল এবং শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহতদের দেখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, আহত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করতে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার মাত্র একদিন পরই ১ নম্বর টার্মিনালে এই হামলার ঘটনা ঘটল। ফলে উক্ত টার্মিনাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল আবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ৪ নম্বর টার্মিনাল থেকে কুয়েত এয়ারলাইনস এবং ৫ নম্বর টার্মিনাল থেকে জাজিরা এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য স্থানীয় নাগরিক ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা এখন এই দুটি এয়ারলাইনসের ওপরই ভরসা করছেন। ফলে টার্মিনাল দুটিতে যাত্রীদের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফ্লাইট ও আসনসংখ্যার তুলনায় যাত্রী বেশি হওয়ায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিমানের ভাড়াও।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যু

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় নির্মাণাধীন ঘরের পানির পাম্পের বৈদ্যুতিক লাইন সচল করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রবাসী বাবা ও তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রবাসী মো. আইন উদ্দিন (৫০) এবং তার ছেলে রাশেদ মিয়া (১৭)।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামে আইন উদ্দিনের একটি নতুন বসতঘর নির্মাণের কাজ চলছিল। এদিন দুপুরে ওই নির্মাণাধীন ঘরের পানির পাম্পের বৈদ্যুতিক লাইনে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় মো. আইন উদ্দিন ও তার ছেলে রাশেদ মিয়া বৈদ্যুতিক সংযোগটি সচল করার চেষ্টা করেন। মেরামতের এক পর্যায়ে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকতার মিয়া জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের মরদেহের সুরতহালসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।