৮ জুন ২০২৬

সৌদিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু!

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
সৌদিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু!

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ধার-দেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের তরুণ প্রবাসী শামীম হোসেন। কিন্তু জীবনের নতুন স্বপ্ন গড়ার আগেই নির্মম দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবের দামাম শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারানো এই প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও পুরো এলাকায়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দামাম শহরের একটি বাসার ছাদে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম হোসেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের আব্দুল ছালামের বড় ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি একটি বাসার ছাদে শুকাতে দেওয়া কাপড় তুলতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে তার মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মাত্র এক বছর আগে, ২০২৪ সালে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শামীম। সেখানে তিনি একটি তেল পাম্পে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।

তার বাবা আব্দুল ছালাম ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে ঋণ ও ধার-দেনার আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের ভাগ্য বদলানোর সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

শামীমের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনরা তার পরিবারের বাড়িতে ভিড় করছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মোস্তফা বলেন, “একটু সুখের আশায় বিদেশে গিয়ে এভাবে প্রাণ হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শামীমের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা জানিয়েছেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারকে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৌদি আরবের মাটিতে নিথর পড়ে থাকা শামীমের মরদেহ এখন পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষা। দুই সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে একনজর দেখার জন্য। কিন্তু যে মানুষটি একদিন পরিবারের সুখের জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, তিনি আর জীবিত ফিরছেন না— ফিরছেন কফিনবন্দি হয়ে।

সৌদিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু!

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
সৌদিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু!

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ধার-দেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের তরুণ প্রবাসী শামীম হোসেন। কিন্তু জীবনের নতুন স্বপ্ন গড়ার আগেই নির্মম দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবের দামাম শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারানো এই প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও পুরো এলাকায়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দামাম শহরের একটি বাসার ছাদে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম হোসেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের আব্দুল ছালামের বড় ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি একটি বাসার ছাদে শুকাতে দেওয়া কাপড় তুলতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে তার মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মাত্র এক বছর আগে, ২০২৪ সালে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শামীম। সেখানে তিনি একটি তেল পাম্পে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।

তার বাবা আব্দুল ছালাম ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে ঋণ ও ধার-দেনার আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের ভাগ্য বদলানোর সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

শামীমের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনরা তার পরিবারের বাড়িতে ভিড় করছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মোস্তফা বলেন, “একটু সুখের আশায় বিদেশে গিয়ে এভাবে প্রাণ হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শামীমের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা জানিয়েছেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারকে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৌদি আরবের মাটিতে নিথর পড়ে থাকা শামীমের মরদেহ এখন পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষা। দুই সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে একনজর দেখার জন্য। কিন্তু যে মানুষটি একদিন পরিবারের সুখের জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, তিনি আর জীবিত ফিরছেন না— ফিরছেন কফিনবন্দি হয়ে।