১৬ জুন ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা সৌদির

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা সৌদির

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট বা শেয়ার করা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি আরব। এসব নির্দেশনা না মানলে শাস্তি পেতে হবে বলেও জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার বহু প্রবাসী তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট বা শেয়ার করেছেন। যার মাধ্যমে তারা নিজেদের ক্ষোভ ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন। সে প্রেক্ষিতে বেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছে সৌদি আরব। যা অমান্য করলে আইনের আওতায়ও নেয়া হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে গালফ নিউজ এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীকে অনলাইনে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। মন্তব্যটি করা হয় একটি ভ্রাতৃপ্রতিম আরব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, গেল ৬ জুন তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে ওই কনটেন্ট শনাক্ত করা হয় এবং তা দেশটির ডিজিটাল ও মিডিয়া কনটেন্ট সংক্রান্ত বিধিমালা লঙ্ঘন করেছে বলে বিবেচিত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মন্তব্যগুলো সৌদি আরবের অ্যান্টি-সাইবারক্রাইম আইনের বিধান লঙ্ঘন করেছে। এ আইনে বন্ধুসুলভ বা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ, তাদের নেতা বা জাতীয় প্রতীককে অবমাননা করে এমন কনটেন্ট প্রকাশ নিষিদ্ধ রয়েছে।

এছাড়া জনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত যে কোনো কিছুই দেশটিতে নিষিদ্ধ।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখবে এবং বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে সৌদি তথ্যমন্ত্রী সালমান আল-দোসারি বলেন, বন্ধুসুলভ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ দেশটির মূল্যবোধ ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। দেশের নীতি, রীতিনীতি এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো আচরণ সহ্য করা হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা সৌদির

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা সৌদির

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট বা শেয়ার করা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি আরব। এসব নির্দেশনা না মানলে শাস্তি পেতে হবে বলেও জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার বহু প্রবাসী তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট বা শেয়ার করেছেন। যার মাধ্যমে তারা নিজেদের ক্ষোভ ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন। সে প্রেক্ষিতে বেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছে সৌদি আরব। যা অমান্য করলে আইনের আওতায়ও নেয়া হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে গালফ নিউজ এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীকে অনলাইনে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। মন্তব্যটি করা হয় একটি ভ্রাতৃপ্রতিম আরব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, গেল ৬ জুন তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে ওই কনটেন্ট শনাক্ত করা হয় এবং তা দেশটির ডিজিটাল ও মিডিয়া কনটেন্ট সংক্রান্ত বিধিমালা লঙ্ঘন করেছে বলে বিবেচিত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মন্তব্যগুলো সৌদি আরবের অ্যান্টি-সাইবারক্রাইম আইনের বিধান লঙ্ঘন করেছে। এ আইনে বন্ধুসুলভ বা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ, তাদের নেতা বা জাতীয় প্রতীককে অবমাননা করে এমন কনটেন্ট প্রকাশ নিষিদ্ধ রয়েছে।

এছাড়া জনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত যে কোনো কিছুই দেশটিতে নিষিদ্ধ।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখবে এবং বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে সৌদি তথ্যমন্ত্রী সালমান আল-দোসারি বলেন, বন্ধুসুলভ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ দেশটির মূল্যবোধ ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। দেশের নীতি, রীতিনীতি এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো আচরণ সহ্য করা হবে না।

ভেঙে গেল ৭ দশকের প্রথা;

সৌদিতে প্রথমবার অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিল ভারত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
সৌদিতে প্রথমবার অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিল ভারত

ভারত সরকার সৌদি আরবে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বিপুলকে নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগকে ভারতের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ১৯৪৮ সালের পর এই প্রথম কোনো অমুসলিম কূটনীতিক দেশটিতে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে তাকে নিয়োগ দেয় নরেন্দ্র মোদির সরকার। দীর্ঘদিন ধরে নয়াদিল্লি সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূত এবং জেদ্দাতে কনসাল জেনারেলের পদে জ্যেষ্ঠ মুসলিম কূটনীতিকদের নিয়োগ দিয়ে আসছিল। মূলত প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হজ ব্যবস্থাপনায় ভারতীয় মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এই প্রথা চালু ছিল।

তবে বিপুলের নিয়োগ ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতেই করা হয়েছে। ১৯৯৮ ব্যাচের সরকারি কর্মকর্তা বিপুল মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর অঞ্চলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি এর আগে কায়রো, কলম্বো, জেনেভা ও দুবাই-এ দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই নিয়োগ ভারতের সৌদি আরব নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়; বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় অঞ্চলে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি ভারতের কূটনৈতিক নিয়োগে মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও আঞ্চলিক অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও বহন করে।

সৌদির বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবরে উত্তেজনা, দায় নিল না ইরান

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
সৌদির বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবরে উত্তেজনা, দায় নিল না ইরান

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উপকণ্ঠে অবস্থিত আল-খার্জ বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি নামেও পরিচিত এই সামরিক স্থাপনাটিতে সোমবার (৮ জুন) সকালে সম্ভাব্য মিসাইল হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের অনতিবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই অঞ্চলের আল-খারজ বিমান ঘাঁটির কাছে বিকট বিস্ফোরণের খবর ছড়ানোর পরপরই এই সতর্কতা আসে।

তবে এই আতঙ্ক ছড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটি বিবৃতিতে সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানায়, আল-খারজ অঞ্চলের ‘বিপদ এখন কেটে গেছে’। তবে প্রাথমিকভাবে কী ধরনের বিপদ বা হুমকি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি সৌদি প্রশাসন।

সৌদি আরবের আল-খারজ বিমান ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবর ছড়ানোর পর আন্তর্জাতিক মহলে আঙুল ওঠে ইরানের দিকে। তবে ইরান অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোমবার সৌদি আরবে তারা কোনো হামলা চালায়নি। সরকারি বার্তাসংস্থা আইআরআইবিকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবের আল-খার্জ ঘাঁটিতে ইরান কোনো হামলা চালায়নি।

ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে মিসাইল নিক্ষেপ
এর আগে, রবিবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর জবাবে রাতে ইরান ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের দিকে অন্তত ১০টি মিসাইল নিক্ষেপ করে। এর পর সোমবার সকালে ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরান, ইসফাহানসহ তিনটি শহরে পাল্টা মিসাইল হামলা চালায়।

এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে একটি মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। ইসরায়েল থেকে ইয়েমেনের দূরত্ব অনেক হলেও হুতি গোষ্ঠী সেখান থেকেই এ হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া মিসাইলটি প্রতিহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় একজন ব্যক্তি আঘাত পান। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র : আল জাজিরা ও টাইমস অব ইসরায়েল।

কেন লাখ লাখ টন বালু আমদানি করে মরুভূমির দেশ সৌদি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
কেন লাখ লাখ টন বালু আমদানি করে মরুভূমির দেশ সৌদি

সমুদ্র সৈকত থেকে মরুভূমি- সবখানেই রয়েছে বালি। তার পরেও বালি আমদানি করতে হয় সৌদি আরবের মতো দেশকে। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে এক লাখ ৪০ হাজার ডলারের বালি আমদানি করেছিল সৌদি আরব। নির্মাণ কাজের জন্য লাখ লাখ টন বালি আমদানি করেছিল দেশটি। যদিও সেখানে রয়েছে বিশাল আকারের কয়েকটি মরুভূমি। তারপরেও কেন অন্য দেশ থেকে বালি আনতে হয় সৌদিকে?

আকারের কারণে সৌদির মরুভূমির বালি নির্মাণকাজে ব্যবহার করা যায় না। হাজার হাজার বছর ধরে বায়ুপ্রবাহের দ্বারা ক্ষয় হয়ে, ঘর্ষণের ফলে সেখানকার বালি মসৃণ কণায় পরিণত হয়েছে। নির্মাণের জন্য সিমেন্টের সঙ্গে বালি মাখতে হয়। কিন্তু মসৃণ বালি সিমেন্টের সঙ্গে মাখা যায় না। মেশানোর চেষ্টা করা হল তা আলাদা হয়ে যায়।

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পপতিভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পপতি
ভাঙা, অমসৃণ বালির কণা ছাড়া নির্মাণ কাজ করা সম্ভব নয়। সিমেন্টের সঙ্গে একমাত্র সেই ভাঙা, অমসৃণ বালিই মাখা যায়, যা পাওয়া যায় নদী, হ্রদের খাত থেকে। ওই সব এলাকার বালির আকার গোল হয় না। পৃষ্ঠ হয় অমসৃণ। সৌদি মরুভূমির বুকে নতুন শহর নিয়োম তৈরি করছে। সেই কাজে তাদের প্রচুর বালির প্রয়োজন, যা আমদানি করা হচ্ছে বিদেশ থেকে।

কেন মরুভূমির বালি নির্মাণে ব্যবহার হয় না

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বালির দানার আকার বিভিন্ন রকম হয়। সেই আকার নির্ভর করে তার উৎপত্তির ওপরে। নদীবাহিত পলি, বালির ঘর্ষণ হয় হিমবাহের সঙ্গে। স্রোতের আঘাত লাগে। সে কারণে তা অসমৃণ হয়। যখন সিমেন্টের সঙ্গে মাখা হয়, তখন তা পরস্পরের সঙ্গে এঁটে থাকে। মরুভূমিতে যে বালি থাকে, তা উড়িয়ে আনে বাতাস। ঘর্ষণ হয়। হাজার হাজার বছর ধরে চলে সেই প্রক্রিয়া। এর ফলে সেই বালি মসৃণ হয়। প্রতিটি কণার আকারও হয় একই রকম। সেগুলো সিমেন্টের সঙ্গে মাখা হলে জমাট বাঁধে না। আলগা হয়ে যায়। এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু বা ২০ তলা উঁচু বিল্ডিং তৈরি করা ওই বালি দিয়ে সম্ভব নয়।

সে কারণেই বালি আমদানি করে সৌদির মতো মরুভূমি অধ্যুষিত দেশগুলোও। সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পশ্চিম এশিয়ার অনেক দেশ সবচেয়ে বেশি বালি আমদানি করে অস্ট্রেলিয়া থেকে। অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে প্রচুর ছোটবড় নদী।

ফ্রান্সে সরকারি সফরে ৬ সন্তানকে সঙ্গে নিলেন হেগসেথফ্রান্সে সরকারি সফরে ৬ সন্তানকে সঙ্গে নিলেন হেগসেথ
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর পাঁচ হাজার কোটি টন বালি নদীখাত থেকে উত্তোলিত হয়। ১৯৭৬ সাল থেকে এই পরিমাণ বেড়ে পাঁচগুণ হয়েছে। পানির পরে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি যে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার হয়, তা হল বালি। গত ৫০ বছর ধরে প্রতি বছর এর চাহিদা বাড়ছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এত দিন যত বালি ব্যবহার হয়েছে, তা দিয়ে গোটা পৃথিবীর চার পাশে ২৭ মিটার লম্বা এবং ২৭ মিটার পুরু প্রাচীর তৈরি করা যেত।

যেখানে চাহিদা এত, সেখানে বালির জোগান কিন্তু সীমিত। তাই বেআইনিভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নদীখাত থেকে বালি উত্তোলন চলছে। তার প্রভাব পড়ছে নদীর বাস্তুতন্ত্রে। বন্যা হচ্ছে। সেতু ভেঙে পড়ছে। ছোট ছোট দ্বীপ উধাও হয়ে যাচ্ছে। তার পরেও নদী খনন করে বন্ধ হচ্ছে না বালি উত্তোলন। কিন্তু প্রশ্ন, নদীখাতের বালির বিকল্প কী হতে পারে? কিছু দেশ পাথর ভাঙা বালি নির্মাণ কাজে ব্যবহার করছে। কিছু দেশে আবার পুরনো পরিকাঠামোর ভগ্নাংশ গুঁড়িয়ে নতুন নির্মাণে ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে চলছে গবেষণা।

সৌদিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু!

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
সৌদিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু!

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ধার-দেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের তরুণ প্রবাসী শামীম হোসেন। কিন্তু জীবনের নতুন স্বপ্ন গড়ার আগেই নির্মম দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবের দামাম শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারানো এই প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও পুরো এলাকায়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দামাম শহরের একটি বাসার ছাদে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম হোসেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের আব্দুল ছালামের বড় ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি একটি বাসার ছাদে শুকাতে দেওয়া কাপড় তুলতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে তার মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মাত্র এক বছর আগে, ২০২৪ সালে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শামীম। সেখানে তিনি একটি তেল পাম্পে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।

তার বাবা আব্দুল ছালাম ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে ঋণ ও ধার-দেনার আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের ভাগ্য বদলানোর সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

শামীমের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনরা তার পরিবারের বাড়িতে ভিড় করছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মোস্তফা বলেন, “একটু সুখের আশায় বিদেশে গিয়ে এভাবে প্রাণ হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শামীমের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা জানিয়েছেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারকে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৌদি আরবের মাটিতে নিথর পড়ে থাকা শামীমের মরদেহ এখন পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষা। দুই সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে একনজর দেখার জন্য। কিন্তু যে মানুষটি একদিন পরিবারের সুখের জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, তিনি আর জীবিত ফিরছেন না— ফিরছেন কফিনবন্দি হয়ে।