১৬ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার তিনি বলেন, জাহাজগুলো চলতে শুরু করেছে, অনেকগুলো তেল বোঝাই করে প্রণালি অতিক্রম করছে।ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে যাওয়ার পথে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এই তথ্য জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, জাহাজগুলো প্রণালির দক্ষিণ দিকের একটি নিরাপদ রুট ধরে চলাচল করছে। এই চলাচলকে তিনি ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত’ বলে উল্লেখ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ওমানের কাছাকাছি একটি সামুদ্রিক পথের কথা বলেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। কারণ এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়।

রবিবার শান্তিচুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ীভাবে’ সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে এখনো এই শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ লিখিত অংশ প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তিটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপর দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার জন্য আরও কারিগরি আলোচনা হবে।

ট্রাম্প আরো বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। গত মে মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গোপনে ২০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে পার হতে সহায়তা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। এসব জাহাজে ১০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল ছিল।

তবে প্রণালি দিয়ে চলাচলে টোল বা ফি আরোপ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, তাদের প্রত্যাশা হলো—দীর্ঘমেয়াদে টোল ছাড়াই প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত আলোচনায়।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা টোল নয়, বরং সামুদ্রিক সেবার জন্য ফি নিতে পারবে। একই সঙ্গে ইরানের জব্দকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে কী না—এসব বিষয়ও এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ভ্যান্স বলেন, কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার আগে একটি যাচাই-প্রক্রিয়া থাকবে। ইরান যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়তে রাজি হয়, তাহলেই তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পাবে।

মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত; বোয়িং কর্মীসহ ৮ জন নিহত!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত; বোয়িং কর্মীসহ ৮ জন নিহত!

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস থেকে উড্ডয়নের পরপরই একটি মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের দুই কর্মীও রয়েছেন।

এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেসের কর্নেল জেমস হেইস এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, আমরা এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছি। আমরা আটজন মহান আমেরিকানকে হারিয়েছি। নিহতদের মধ্যে সামরিক সদস্য, সরকারি বেসামরিক কর্মী এবং সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ছিলেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ১৯৫০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বোয়িং বি-৫২ স্ট্র্যাটোফরট্রেস। ‘বাফ’ (BUFF) নামে পরিচিত এই দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমানটি সম্প্রতি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে।

যেভাবে বিধ্বস্ত হয় পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম বি-৫২ বোমারু বিমান
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনে থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যা বহু দূর থেকেও দেখা যায়। দুর্ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে বিমানঘাঁটির রানওয়ের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল। ঘটনার পর সাময়িকভাবে ঘাঁটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বিমানটি ঘাঁটির রাডার আধুনিকায়ন কর্মসূচিতে সহায়তা করছিল এবং উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে মোহাভি মরুভূমিতে অবস্থিত এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটিতে দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং সব আগত বিমানকে বিকল্প গন্তব্যে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি জরুরি সাড়া কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে অ-বাণিজ্যিক দর্শনার্থীদের প্রবেশও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

ঘাঁটি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাটি থেকে বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পর তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক ভিডিওচিত্র পর্যালোচনার পর দুর্ঘটনাটিকে ‘উদ্ধার-অযোগ্য এবং প্রাণে বাঁচার সম্ভাবনাহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হতে ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, আর বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধান ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় উড়তে সক্ষম এই বিমান প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ড (৩২ হাজার কেজি) অস্ত্র বহন করতে পারে। এর মধ্যে শত শত প্রচলিত বোমা ও ৩২টি পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতাও রয়েছে। আকাশে জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা থাকায় এর আঘাত হানার পরিসর কার্যত সীমাহীন। সাধারণত একটি বি-৫২ বিমানে পাঁচ সদস্যের ক্রু থাকেন—বিমান কমান্ডার, পাইলট, রাডার নেভিগেটর, নেভিগেটর এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ কর্মকর্তা।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার তিনি বলেন, জাহাজগুলো চলতে শুরু করেছে, অনেকগুলো তেল বোঝাই করে প্রণালি অতিক্রম করছে।ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে যাওয়ার পথে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এই তথ্য জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, জাহাজগুলো প্রণালির দক্ষিণ দিকের একটি নিরাপদ রুট ধরে চলাচল করছে। এই চলাচলকে তিনি ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত’ বলে উল্লেখ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ওমানের কাছাকাছি একটি সামুদ্রিক পথের কথা বলেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। কারণ এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়।

রবিবার শান্তিচুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ীভাবে’ সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে এখনো এই শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ লিখিত অংশ প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তিটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপর দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার জন্য আরও কারিগরি আলোচনা হবে।

ট্রাম্প আরো বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। গত মে মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গোপনে ২০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে পার হতে সহায়তা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। এসব জাহাজে ১০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল ছিল।

তবে প্রণালি দিয়ে চলাচলে টোল বা ফি আরোপ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, তাদের প্রত্যাশা হলো—দীর্ঘমেয়াদে টোল ছাড়াই প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত আলোচনায়।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা টোল নয়, বরং সামুদ্রিক সেবার জন্য ফি নিতে পারবে। একই সঙ্গে ইরানের জব্দকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে কী না—এসব বিষয়ও এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ভ্যান্স বলেন, কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার আগে একটি যাচাই-প্রক্রিয়া থাকবে। ইরান যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়তে রাজি হয়, তাহলেই তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পাবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি

ইসরায়েলের জন্য ‘কৌশলগত ধাক্কা’ ও নেতানিয়াহুর নড়বড়ে অবস্থান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
ইসরায়েলের জন্য ‘কৌশলগত ধাক্কা’ ও নেতানিয়াহুর নড়বড়ে অবস্থান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আসন্ন চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সোমবার (১৫ জুন) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ঘোষিত এই চুক্তির রূপরেখা ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের হ্রাসমান প্রভাব এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ব্যর্থতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

ইসরায়েলের ওপর প্রভাব ও বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
ইসরায়েলের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ এই চুক্তিকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তিটি ইরানের স্বার্থকে সুরক্ষিত করলেও ইসরায়েলের নিরাপত্তার মূল উদ্বেগগুলোকে উপেক্ষা করেছে। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) বিশ্লেষক সিমা শাইন বলেন, ইরানকে সন্তুষ্ট করার প্রক্রিয়ায় পারমাণবিক ইস্যুর মতো ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা ও ‘মিস্টার ইরান’ ভাবমূর্তি
দীর্ঘদিন ধরে ‘মিস্টার ইরান’ হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য এই চুক্তিটি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাধ্যমে অক্টোবরের নির্বাচনে সুবিধা পাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে এখন তিনি নিজ দেশেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এটি প্রত্যাখ্যান করলেও, এটি মানতে দেশটি কার্যত বাধ্য হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের প্রভাব হ্রাস
বিশ্লেষক মাইকেল হোরোভিৎজ এবং মাইকেল মিলশটেইন উভয়েই ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের প্রভাব ম্লান হওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের পরামর্শ বা আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই কার্যত তাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের দুর্বল অবস্থানকে প্রমাণ করে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যেও ইসরায়েলকে কার্যত উপেক্ষা করার সুর পাওয়া গেছে।

চুক্তির ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তির ফলে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর তেহরান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে আবির্ভূত হবে।
একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের ওপর ইসরায়েলের প্রভাব সীমিত হয়ে পড়ায়, ভবিষ্যতে গাজা বা লেবাননের ক্ষেত্রেও ইসরায়েলকে বাধ্য হয়েই যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, অস্বস্তিতে ইসরায়েল

নেতানিয়াহুর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা

প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
নেতানিয়াহুর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি নেতানিয়াহুকে ‘খুবই কঠিন মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি খুবই কঠিন একজন মানুষ। আর সত্যি বলতে, আমাদের প্রতি তার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে সেই অস্ত্রের সামনে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইসরায়েল অংশ নেয়নি। চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তির ফলে শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক হামলা শুরু করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের আয়ের ২০ শতাংশের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের অভিভাবক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান তিনি।

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুদ্ধ বন্ধে অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে ইসরায়েল।

এই সমঝোতার ঘোষণার পরই ইসরায়েলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব হয়েছে। কয়েক মাস আগেও যেসব গণমাধ্যম ট্রাম্পকে ইসরায়েলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছিল, তারাই এখন তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ৯

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গত চৌদ্দ দিনের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র রুশ বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই আকস্মিক হামলায় দেশটির আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা আশ্রমে আগুন লেগে যায়।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ৯

সোমবার (১৫ জুন) ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিবৃতির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এই ধ্বংসাত্মক বিমান হামলার তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে বিশেষ আলোচনা করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মস্কো কিয়েভে এই বড় ধরনের হামলা চালায়। এর আগে রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক খাতের প্রধান প্রধান অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

রোববার ইউক্রেনের সেনারা রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল স্থাপনায় সফল আঘাত হানে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান যে ওই স্থাপনাটি মস্কোর জ্বালানি মজুত ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। একই সঙ্গে তিনি তুলা অঞ্চলের আজট রাসায়নিক কারখানাতেও সফল হামলার দাবি করেন যা রাশিয়ার বিস্ফোরক তৈরির অন্যতম মূল কেন্দ্র।

রাশিয়া তাদের দেশে ইউক্রেনীয় হামলার বিষয়টি আংশিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের গভর্নর জানান যে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় তাদের একটি শিল্প খাতের জ্বালানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মস্কোগামী সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে তুলা অঞ্চলের গভর্নর জানান যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নোভোমস্কভস্ক শহরের একটি কারখানার ভেতরে পড়েছে।

ইউক্রেন ছাড়া রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের লজিস্টিকস ও সামরিক সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতেও কিয়েভ বাহিনী একযোগে হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধ করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্রেমলিন জানিয়েছে যে ফোনালাপে ট্রাম্প চলমান যুদ্ধের অবসানকে জরুরি বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও কথা বলেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও নিশ্চিত করেছেন যে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তাদের এই ফোনালাপে মূলত যুদ্ধ বন্ধের নানা প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।