১৬ জুন ২০২৬

তেহরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
তেহরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, আলোচনার শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করবে।

সোমবার (১৫ জুন) ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার পর ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন মোট ২৪ বিলিয়ন ডলারের আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় করা হবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এ তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে তাদের প্রকাশিত নথিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘এই পরিমাণের অর্ধেক অর্থ আলোচনার শুরুতে ইরানের জন্য সহজলভ্য করতে হবে।’

এর আগে, ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্মত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।

দুটি আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মোট ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত অন্য দুটি সূত্র জানিয়েছে, মোট তহবিলের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার।

তারা আরও জানায়, আমিরাতের ওপর ইরানের হামলা বন্ধের বিনিময়ে এ চুক্তি হয়েছে।

এই ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর মধ্যে একটি জানায়, ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রথম কিস্তি ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

এই অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব নাকি আমিরাতের ব্যাংকিং সিস্টেমে বা অন্য কোথাও দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানের অর্থ, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি: যেসব বিষয় আছে এই ঐতিহাসিক সমঝোতায়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি: যেসব বিষয় আছে এই ঐতিহাসিক সমঝোতায়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে ইরানে পৌঁছেছেন কাতারের প্রতিনিধি দল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আশাবাদের পর তাদের তেহরান সফরের খবর সামনে এলো।

রোববার (১৪ জুন) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই সমঝোতা স্মারকে সই করতে পারে। যদিও এর আগে চুক্তি স্বাক্ষরের এই সময়সূচি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল ইরান।

ইরানের আধা-সরকারি সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকটির রাজনৈতিক, আইনি ও প্রযুক্তিগত দিকগুলোর পর্যালোচনা বিশেষজ্ঞ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্যায়ে এখনও পর্যালোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি ইরানি নেতারা।

রয়টার্সকে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত খসড়ায় তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উভয় পক্ষের সম্মতির পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, খসড়া স্মারকলিপিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে-

হরমুজ প্রণালি

ইরান অবিলম্বে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে তার নৌ অবরোধ তুলে নেবে।

সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে, একটি সম্মত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের উপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। ফলে তেহরান তেল বিক্রি করে রাজস্ব আয় করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং আর্থিক ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের জব্দকৃত ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করতে রাজি হয়েছে।

ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের জন্য একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে, যা ৬০ দিনের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ও সম্মতির ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে।

পারমাণবিক

তেহরান সম্মত হয়েছে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন বা অর্জন করবে না।

চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে এবং আরও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক স্থাপনার সম্প্রসারণ থেকে বিরত থাকবে।

ভবিষ্যত একটি ব্যাপক চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তার ভূখণ্ডে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস করার অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হবে। একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে এর সমাধান করা হবে।

তেহরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
তেহরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, আলোচনার শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করবে।

সোমবার (১৫ জুন) ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার পর ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন মোট ২৪ বিলিয়ন ডলারের আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় করা হবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এ তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে তাদের প্রকাশিত নথিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘এই পরিমাণের অর্ধেক অর্থ আলোচনার শুরুতে ইরানের জন্য সহজলভ্য করতে হবে।’

এর আগে, ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্মত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।

দুটি আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মোট ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত অন্য দুটি সূত্র জানিয়েছে, মোট তহবিলের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার।

তারা আরও জানায়, আমিরাতের ওপর ইরানের হামলা বন্ধের বিনিময়ে এ চুক্তি হয়েছে।

এই ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর মধ্যে একটি জানায়, ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রথম কিস্তি ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

এই অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব নাকি আমিরাতের ব্যাংকিং সিস্টেমে বা অন্য কোথাও দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানের অর্থ, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।

অবশেষে চূড়ান্ত হলো ঐতিহাসিক মার্কিন-ইরান ‘শান্তি চুক্তি

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘শান্তি চুক্তি’ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হবে।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
অবশেষে চূড়ান্ত হলো ঐতিহাসিক মার্কিন-ইরান ‘শান্তি চুক্তি

সোমবার (১৫ জুন) ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

শেহবাজ শরিফের ঘোষণার পর চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।’


মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।’

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলুক।’

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণায় উপস্থাপক বলেছেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও ইরানি কিছু সংবাদমাধ্যমে এই চুক্তিকে ইরানের জন্য বিজয় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

গতকাল রোববার লেবাননে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় ইরান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই তীব্র নিন্দা জানান। সেই উত্তেজনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাল দুই দেশ।

এর আগে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি হামলার কড়া সমালোচনা করেন ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে চালানো ওই হামলা নিয়ে ইসরায়েলের দাবি ছিল, তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেছে। তবে গালিবাফ বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের ‘ইচ্ছা ও সক্ষমতা’ রাখে না।

এ ছাড়া বৈরুতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরান এর ‘কঠোর জবাব’ দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। দেশটির সামরিক কমান্ড জানায়, তাদের ‘আঙুল ট্রিগারে রয়েছে’ এবং তারা ‘শত্রুর হৃৎপিণ্ড’ লক্ষ্য করে গুলি চালাতে প্রস্তুত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ (রোববার) সকালে বৈরুতে এ হামলা হওয়া মোটেও উচিত হয়নি। বিশেষ করে এমন এক দিনে এ ঘটনা ঘটল, যখন আমরা ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির একেবারে কাছাকাছি রয়েছি।’

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা পরিকল্পিত এই চুক্তির অংশ নয়। লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান কমানোর মার্কিন দাবির বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর লেবাননে ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত আবার তীব্র আকার ধারণ করে।

এখনো চুক্তির শর্তগুলো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছে।

এর আগে রয়টার্সকে বেশ কিছু সূত্র জানায়, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। ইরানের বন্দরগুলোয় মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আরও ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে।

ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, চুক্তির খসড়া অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে রাখা ২৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ছেড়ে দেবে। বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। এ ছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ না করার বিষয়েও সম্মত হয়েছে ইরান।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ব্রিটেন-ফ্রান্স-জার্মানি-ইতালি

ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে দেশটির ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে প্রস্তুত রয়েছে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ব্রিটেন-ফ্রান্স-জার্মানি-ইতালি
বাম দিক থেকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: এএফপি

ইউরোপের এই প্রধান চার দেশের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টার বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাত দিয়ে এইট এএম মিডিয়া এক প্রতিবেদনে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেছে।

রোববার (১৪ জুন) রাতে প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে চার দেশের শীর্ষ নেতারা বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানকে অবশ্যই ‘কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।’ এই লক্ষ্য অর্জনে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

পারমাণবিক বিষয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালিটি কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই অনতিবিলম্বে পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য এই চার দেশ জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।

আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের দাবি ট্রাম্পের, সংশয় প্রকাশ তেহরানের

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের দাবি ট্রাম্পের, সংশয় প্রকাশ তেহরানের

দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রোববারই (১৪ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তিটি সই হওয়ার পরপরই বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে চুক্তির চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্প ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, তেহরানের পক্ষ থেকে কিছুটা সতর্কতা ও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, আগামীকালই (রোববার) চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর এটি সই হওয়ার সাথে সাথেই হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প আরও বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত হলে আমরা উপযুক্ত সময়ে সেখানে যাব এবং সমস্ত নিউক্লিয়ার ডাস্ট (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) নিয়ে এসে তা ধ্বংস করব। তবে চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গড়িমসি করা হলে ওয়াশিংটনের হাতে ‘চূড়ান্ত বিকল্প’ প্রস্তুত রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এই শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ট্রাম্পের সুরেই কথা বলেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, আমরা একটি শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি চূড়ান্ত হতে পারে এবং পাকিস্তান ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক সাইনিং বা ডিজিটাল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন তাড়াহুড়োর বিপরীতে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সমঝোতা স্মারকটি ঠিক কোন তারিখে স্বাক্ষরিত হবে, তা জানতে আমাদের আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি যে আগামীকালই (রোববার) হচ্ছে না, তা নিশ্চিত। যদিও আগামী দিনগুলোতে চুক্তিটি সই হওয়ার সম্ভাবনা তিনি একেবারে উড়িয়ে দেননি।

এর আগে গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বড় চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। এই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার লড়াইয়ের অবসান ঘটবে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চুক্তি সইয়ের পরে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সাথে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। গত এপ্রিলে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হলেও চলতি সপ্তাহেও উভয়পক্ষ একে অপরের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে।