বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের চিরচেনা তর্ক-বিতর্ক আর পরিসংখ্যানের চুলচেরা বিশ্লেষণ। কোন দল কতবার ট্রফি জিতল কিংবা কারা সবচেয়ে বেশি গোলগেন্তাতিন- নিয়ে উত্তেজনার শেষ থাকে না।
কাতার বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তোলা তিনবারের বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসও যেমন রেকর্ড ও সাফল্যে মোড়ানো, তেমনি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কিছু লজ্জাজনক পরাজয়ের গল্পও।
যুগে যুগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা ইতালির মতো পরাশক্তি তো বটেই, এমনকি বলিভিয়ার মতো দলের কাছেও অবিশ্বাস্য ব্যবধানে বিধ্বস্ত হতে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। মাঠের সেসব চরম ব্যর্থতা আর গোল হজমের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান নিয়েই এই আয়োজন।
আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়গুলোর একটি ঘটে ১৯৮৫ সালে, যখন কোপা পাজ দেল চাকো টুর্নামেন্টে বলিভিয়ার কাছে ১১–১ গোলে হারে আর্জেন্টিনা (এটি মূলত আর্জেন্টিনার ‘বি’ দল ছিল)।
পরবর্তীতে ২০০৯ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লা পাজে ৬–১ গোলে আবারও হারতে হয়।
দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল উরুগুয়ে ১৯৪০–৫০ দশকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একাধিক বড় জয় পেয়েছে, যার মধ্যে ৬–১ ব্যবধান অন্যতম। পেরুও ১৯৫০-এর দশকে আর্জেন্টিনাকে ৬–০ গোলে হারানোর রেকর্ড গড়ে।
চিলি ১৯৮০ সালের দিকে আর্জেন্টিনাকে ৬–১ ব্যবধানে হারিয়ে বড় চমক দেখায়। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১৯৬২ সালে একটি হাই-স্কোরিং ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৫–৪ গোলে হেরে যায়।
ইউরোপের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে কিছু শক্তিশালী দল: জার্মানি বিশ্বকাপ ও প্রীতি ম্যাচে একাধিকবার জয় (যেমন ১৯৫৮ সালে ৮-০, এবং পরবর্তীতে ৬-০ ধরনের ফলাফল ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখ থাকে)
সুইজারল্যান্ড: ১৯৭৫ সালে ৫-২ ব্যবধানে জয়।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো আধুনিক যুগে আর্জেন্টিনা বড় ব্যবধানে খুব কমই হারে।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলও বিভিন্ন সময়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭৭ সালে ৫–০ এবং ১৯৯৬ সালে ৬-২ ব্যবধান উল্লেখযোগ্য।
আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসে সফলতম দলগুলোর একটি হলেও, তাদের অতীত পরাজয়গুলোও বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে কিছু বড় হার আজও আলোচনায় উঠে আসে।