১৩ জুন ২০২৬

যুদ্ধ চলাকালে আজারবাইজানে ইরান সীমান্তে কমান্ডো পাঠিয়েছিল ইসরায়েল, ঘাঁটি ছিল সোমালিল্যান্ডেও

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
যুদ্ধ চলাকালে আজারবাইজানে ইরান সীমান্তে কমান্ডো পাঠিয়েছিল ইসরায়েল, ঘাঁটি ছিল সোমালিল্যান্ডেও
আজারবাইজান সীমান্তে ইরানের একটি ওয়াচ টাওয়ার। ছবি: এএফপি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল গোপনে আজারবাইজানে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছিল। একই সময়ে দেশটি সোমালিল্যান্ডে যুদ্ধবিমান জ্বালানি ভরার একটি ঘাঁটি পরিচালনা করেছিল। এমনটাই দাবি করা হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজারবাইজান-ইরান সীমান্তজুড়ে কয়েক ডজন ইসরায়েলি কমান্ডো ও মোসাদ এজেন্ট মোতায়েন ছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থানটি ছিল ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজ থেকে প্রায় ৬০ মাইল বা ৯৬ কিলোমিটার দূরে। ইসরায়েল যুদ্ধ চলাকালে তাবরিজে হামলা চালিয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়েছে সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে এই বাহিনীর দায়িত্ব ছিল কোনো ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরান ভূপাতিত করলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা। পরে তাদের মিশনের পরিধি বাড়ানো হয়। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সহায়তা করতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ড্রোন পরিচালনার দায়িত্বও দেওয়া হয় তাদের।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজারবাইজানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত অভিযানের মধ্যে অন্যতম ছিল যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিশেষ অভিযান বিভাগের প্রধান রহমান মোগাদ্দামকে হত্যা করা।

মোগাদ্দাম ইরানের ভেতরে ও বাইরে কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এসব কর্মীকে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতা, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ইসরায়েলি ও পশ্চিমা সামরিক স্থাপনা, বন্দর এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলাচলকারী ইসরায়েলি জাহাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে সিএনএনের এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাস। এক বিবৃতিতে দূতাবাস বলেছে, ‘বহুবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আজারবাইজানের ভূখণ্ড কোনো তৃতীয় দেশ অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান, গোয়েন্দা কার্যক্রম বা অন্য কোনো বৈরী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা পুরোপুরি অসত্য। আজারবাইজান কখনোই তার ভূখণ্ডকে এমন কাজে ব্যবহার করতে দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না।’

এ সময় সিএনএনের সমালোচনা করে দূতাবাস অভিযোগ করে, সংবাদমাধ্যমটি সাংবাদিকতার ‘বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাগত নৈতিকতার নীতিমালা’ লঙ্ঘন করেছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করে আসছে যে, ইসরায়েল আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পারে। কারণ আজারবাইজান ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহকারী এবং জ্বালানি অংশীদার। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল যখন ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালায়, তখন আজারবাইজান তেহরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের ভূখণ্ড এ ধরনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষ জাতিগতভাবে আজারি। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা নিয়ে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন।

আজারবাইজান ও সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের কথিত গোপন তৎপরতা নিয়ে সিএনএনের এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আরও কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেগুলোতে দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েন করেছিল এবং ইরাকে দুটি গোপন ঘাঁটি পরিচালনা করেছিল।

সিএনএন জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে তারা সোমালিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েল পূর্ব আফ্রিকার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ হয়। এ পদক্ষেপে আরব লীগ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

বর্তমানে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সোমালিল্যান্ডের বন্দরনগরী বেরবেরায় বড় ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা অভিযান শুরু করে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে যুদ্ধ অবসানের আলোচনা অগ্রগতি পায়নি। যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ওয়াশিংটনের কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা চাইলে এখনই সেটি নিয়ে আসতে পারি। আমার মনে হয় না, আমরা চাইলে তারা আমাদের থামাতে পারবে। তবে এর প্রয়োজন নেই। সেটি সমাধিস্থ অবস্থায় রয়েছে।’

ইসরায়েল ধ্বংসের অঙ্গীকার করা ইরানি নেতৃত্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না বলে দাবি করে আসছে। তবে দেশটি এমন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যার কোনো শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নেই বলে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ। ধারণা করা হচ্ছে, গত জুনে ১২ দিনব্যাপী ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালানোর পর উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ ভূগর্ভে আটকা পড়ে রয়েছে।

কাতার, আরব আমিরাত ও পাকিস্তান ‘বোঝানোর’ পর ইরানে হামলা থেকে পিছু হটেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচমকা ইরান আক্রমণের হুমকি ও কঠোর হুঁশিয়ারির পর শেষ মুহূর্তে যুদ্ধ এড়াতে মরিয়া কূটনৈতিক চেষ্টায় সফল হয়েছেন কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা।
প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
কাতার, আরব আমিরাত ও পাকিস্তান ‘বোঝানোর’ পর ইরানে হামলা থেকে পিছু হটেছেন ট্রাম্প

বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন—'আজ রাতেই ইনে কঠিন আঘাত হানব'। এই পোস্টের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলাতে মরিয়া চেষ্টায় নেমে যান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ফোন করে তারা বলেন, একটি প্রাথমিক চুক্তি একেবারে হাতের নাগালে, যা আগামীতে আরও বিস্তারিত আলোচনার পথ খুলে দেবে।

মার্কিন প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত একজন কূটনীতিক নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, এই ফোনকলগুলো ফোন করেছিলেন কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের বিশ্বাস, তেহরান ও সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির ওপর এই দেশগুলোর ভালো প্রভাব রয়েছে। চুক্তি যে প্রায় চূড়ান্ত—তাদের এই আশ্বাস পেয়েই শেষ মুহূর্তে ইরান আক্রমণের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসেন ট্রাম্প।

এরপর ট্রাম্প নিজেই ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা করেন, চলতি সপ্তাহান্তেই (উইকএন্ড) চুক্তি সই হয়ে যেতে পারে।

পরে বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'ইরান যুদ্ধের একটা দারুণ চুক্তি করে ফেলেছি আমরা। এখন শুধু নথিপত্র চূড়ান্ত করার অপেক্ষা। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব শেষ হবে।'

তবে ইরান বলছে অন্য কথা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই বলেছেন, আলোচনার টেক্সটের বড় একটি অংশ চূড়ান্ত হলেও নিজেদের রেডলাইন কোনো আপস করবে না তেহরান।

'চুক্তির ব্যাপারে ইরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি,' বলেন তিনি।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তারপরও মার্কিন ও আরব কর্মকর্তারা আশাবাদী যে ট্রাম্পের এই ঘোষণা হয়তো বাস্তব চুক্তিরই পূর্বাভাস। যদিও চার মাস ধরে চলা এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথে এখনো বিস্তর বাধা রয়ে গেছে।

একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও এই কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে অবগত একজন ব্যক্তি বলেন, আপাতত আলোচনার টেবিলে কেবল দুটি বিষয় রয়েছে—হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসে জানিয়েছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আরও সময় লাগবে; হরমুজ উন্মুক্ত করাটা কেবল প্রথম পদক্ষেপ।

আর খামেনেই আদৌ এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধের শুরুর দিকেই গুরুতর জখম হয়েছেন তিনি। এখন তিনি এমন জায়গায় আছেন, সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নেই। ফলে যেকোনো প্রস্তাবে তার মতামত আসতে কয়েক দিন লেগে যাচ্ছে।

অনেক কূটনীতিবিদই অবশ্য খামেনির সম্মতির বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। একজন আরব কূটনীতিবিদ বলেন, 'নিজের চোখে না দেখা পর্যন্ত আমি এটা বিশ্বাস করছি না।'

হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের তথ্যমতে, চুক্তির সত্যতা নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসন আসলে কার সাথে আলোচনা করছে তার ওপর। ওই সূত্র বলেছে, 'আলোচনা যদি (ইরানের) রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে হয়ে থাকে, তবে তা বাস্তব। কিন্তু পক্ষটি যদি হয় আইআরজিসি, তাহলে ভরসা কম।'

গত কয়েক দিনে কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একের পর এক প্রস্তাব চালাচালি হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু না হওয়ায় ট্রাম্পের ধৈর্যচ্যুতি ঘটছিল। ইরান তাকে কেবল ঘোরাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

এরইমধ্যে চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতি আবার তেতে ওঠে। ইরান একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করলে দুই পক্ষ নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে। মূলত ইরানকে দ্রুত চুক্তিতে বাধ্য করতেই ট্রাম্প এই চাপ সৃষ্টির কৌশল নেন।

আলোচনার খসড়া সম্পর্কে অবগত এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা এবং অপর এক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই দরকষাকষির অংশ হিসেবে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের ১৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ছাড় করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে আমেরিকা এই অর্থ কেবল নির্দিষ্ট কিছু কেনাকাটায় ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হলে ব্যাংকগুলোকে এই অর্থ ছাড় না করার নির্দেশ দেয় ওয়াশিংটন।

গত সপ্তাহে রুবিও কংগ্রেসে বলেছিলেন, কেবল হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য ইরানের ওপর থেকে কোনো আগাম নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে না। সেটি সম্ভব কেবল পরবর্তী আলোচনাগুলোতে, যেখানে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ মানতে রাজি হবে।

তবে নির্দিষ্ট কিছু কেনাকাটার জন্য এই আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হলে ইরানের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে পারে। তেহরানের দাবি ছিল, পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়ে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই তাদের অর্থনৈতিক স্বস্তি দিতে হবে।

তবে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য চুক্তিই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতেই তিনি ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণের জন্য প্ররোচিত করেছিলেন।

যুক্তরাজ্যে সুদানের অভিবাসীর ছুরিকাঘাত থেকে বিক্ষোভ-সহিংসতা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
যুক্তরাজ্যে সুদানের অভিবাসীর ছুরিকাঘাত থেকে বিক্ষোভ-সহিংসতা

যুক্তরাজ্যে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক অভিবাসীর ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়েছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাতে শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন, যাঁদের অধিকাংশই মুখে মাস্ক পরে ছিলেন। এ সময় একটি বাসসহ কয়েকটি গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া হয়। সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

বিবিসি এক খবরে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত সোমবার (৮ জুন) রাতে একটি হামলার সূত্র ধরে এই সহিংসতার শুরু। সুদানের নাগরিক হাদি আলোদিদের ছুরিকাঘাতে স্টিভেন ওগিলভি নামের একজন গুরুতর আহত হন। অভিযুক্তকে আটক করে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, এনএইচএসের একজন রেডিওগ্রাফারকে হত্যার হুমকি এবং ছুরি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ বুধবার তাঁকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছ, সুদানের নাগরিক হাদি ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তাঁকে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়।

স্টিভেন ওগিলভিকে হামলার একটি ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তেই শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় তারা ‘ফরেইনার্স আউট’ বা ‘বিদেশিরা বেরিয়ে যাও’ বলে স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। তবে বেশির ভাগ হামলা হয়েছে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে। বেলফাস্টে এক আফ্রিকান পরিবারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ইউক্রেন থেকে আসা এক কিশোরী জানান, তাঁদের বাড়ির সদর দরজায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলে তিনি পালিয়ে আসেন। আগুন দেওয়া হয় সিটি সেন্টারের একটি বাড়িতে। এর অধিবাসীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে ডাস্টবিনে আগুন ধরায় এবং পরে পেট্রল বোমা ছুড়ে মারে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন, ভুক্তভোগীদের জাতিগত পরিচয় জেনেই সহিংসতা চালানো হয়েছে। সরকার এসব বরদাশত করবে না।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের সহিংসতা কাপুরুষোচিত। একদল লোক মাস্ক পরে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে মানুষকে ঘর ছাড়া করছে।

ও’নিল বলেন, বর্ণবাদ, ভীতি ছড়ানো এবং সহিংসতা সব সময়ই নিন্দনীয়। আজকের এই হামলার কোনো অজুহাত মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের শহরে এমন ঘটনা কেউ আর দেখতে চায় না। আমি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

ইরান আমাদের বোকা বানাচ্ছে, আজ আবার হামলা চালাব: ট্রাম্প

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
ইরান আমাদের বোকা বানাচ্ছে, আজ আবার হামলা চালাব: ট্রাম্প
ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইরানে নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছেন, আজ বুধবার আবারও ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতেও মার্কিন বাহিনী ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, পারমাণবিক চুক্তি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা টেবিলে ইরান মূলত ওয়াশিংটনকে কালক্ষেপণের মাধ্যমে ধোঁকা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইরান এত দিন ধরে আমাদের বোকা বানাচ্ছে। এবার আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি আপনারা টেলিভিশন সেট অন না করার কারণে রাতের ঘটনা মিস করে থাকেন, তবে জেনে রাখুন—আজ আমরা তাদের ওপর আবারও কঠোর হামলা চালাতে যাচ্ছি। এরপর দেখা যাবে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হয়।’

কেন এই উত্তেজনা
ইরানের ওপর চলমান নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গত সোমবার ওমান উপকূলের হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল আপাচি হেলিকপ্টার (এএইচ-৬৪) বিধ্বস্ত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাহিনী হেলিকপ্টারটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। এর জবাবেই মূলত মঙ্গলবার রাত থেকে ইরানি রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

দুই মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের হামলাটি এমনভাবে পরিমাপ বা ক্যালিব্রেট করা হয়েছিল যাতে ইরানের কোনো সামরিক বা বেসামরিক নাগরিক হতাহত না হয়।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি অত্যন্ত দামি হেলিকপ্টারে তারা গুলি চালিয়েছে। এই একটি ঘটনাই আমাদের তাদের ওপর পাল্টা আঘাত হানার পূর্ণ অধিকার এনে দিয়েছে। সৌভাগ্যবশত হেলিকপ্টারে থাকা দুই ক্রু সদস্য বেঁচে গেছেন।’

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মূর্তির মধ্যেও কূটনীতির পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন যাতে ভেঙে পড়া আলোচনা আবার শুরু করা যায়।

তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবের জন্য গত দুই সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করতে করতে ট্রাম্পের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।

ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, আমরা একটা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কেবলই সময় নষ্ট করছে, আমাদের সঙ্গে ‘ট্যাপ, ট্যাপ, ট্যাপ’ (টালবাহানা) খেলছে। আমি জানি না তারা আসলে কী করতে চায়! তবে যুক্তরাষ্ট্রকে আর বোকা বানানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।

আপাতত আজ বুধবার ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের নতুন বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) আফগান সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলমান ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে ইতিমধ্যে কয়েক শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান যে পাকিস্তানের এই সাম্প্রতিক বিমান হামলাগুলো মূলত আফগানিস্তানের খোস্ত, কুনার এবং পাক্তিকা প্রদেশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। তবে এই বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা শিকারোক্তি পাওয়া যায়নি।


আফগানিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হাসান খেল এলাকায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে সন্দেহভাজন পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের হামলার ঠিক এক দিন পর এই বিমান হামলা চালানো হলো। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ওই তীব্র বন্দুকযুদ্ধে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির ৬ জন সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে ৮ জন হামলাকারীকে হত্যা করে এবং চেকপোস্ট দখলের চেষ্টা নসাৎ করে দেয়। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহসিন নাকভি পেশোয়ারে নিহতদের জানাজায় অংশ নিয়ে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে আফগানিস্তান কর্তৃক পাকিস্তানের অভ্যন্তরে পাল্টা সীমান্ত হামলার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তানে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয় বলে আফগানিস্তান দাবি করে। তবে পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করে জানায় যে তারা কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নয়, বরং একটি গোলাবারুদের ডিপোতে আঘাত হেনেছিল।

এই নতুন সামরিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে তৈরি হলো যার মাত্র কয়েক মাস আগে চীন উত্তর অঞ্চলের উরুমকিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি বিশেষ শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছিল। ওই বৈঠকের পর বেইজিং জানিয়েছিল যে দুই দেশই সংঘাত আর না বাড়াতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে সম্মত হয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান তাদের মাটিতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা ‘টিটিপি’র মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে ক্রমাগত আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে। তবে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকা আফগান তালেবান প্রশাসন ইসলামাবাদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ইসরাইল-ইরান সংঘাত শান্তি চুক্তিতে প্রভাব ফেলবে না: ট্রাম্প

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
ইসরাইল-ইরান সংঘাত শান্তি চুক্তিতে প্রভাব ফেলবে না: ট্রাম্প

ইসরাইলের হামলার জবাবে দেশটিতে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ট্রাম্প ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘চুক্তির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। আমিই সব সিদ্ধান্ত নিই। তিনি (নেতানিয়াহু) কোনো সিদ্ধান্ত নেন না।’

ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাঁচ ঘণ্টা পরেও নেতানিয়াহু এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

এই সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সোমবারের প্রথম দিকের লেনদেনে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে, তারা নাজারেথের কাছে রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করে তা প্রতিহত করা হয়েছে।