১৩ জুন ২০২৬

ইরান চুক্তি করেছে বলে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল তেহরান

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
ইরান চুক্তি করেছে বলে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল তেহরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনা শুরু করার একটি খসড়া চুক্তিতে ‘অনুমোদন’ দিয়েছে তেহরান। এ কারণে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিলও করেছেন তিনি।

তবে, ইরানের সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেয়নি। তবে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতে স্বাক্ষর করার বিষয়টি তেহরান বিবেচনা করতে পারে, এমন একটি সম্ভাবনা রয়েছে।

আলোচিত এই শান্তি চুক্তির উদ্দেশ্য হলো- প্রণালিটি খুলে দেয়া এবং মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়া, কিন্তু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে যেকোনো চুক্তির জন্য সম্ভবত আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে।

সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সাথে আলোচনা দেশটির নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আনা হয়েছে এবং অনুমোদিত হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে, আজ সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত বোমা হামলা বাতিল করেছি।’

তিনি আরও দাবি করেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিশর।

ইরান যা বলেছে
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের সাথে যুক্ত ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স, ইরানের আলোচনা দলের ঘনিষ্ঠ এক অবহিত সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের কোনো খসড়া অনুমোদিত হয়নি।

দেশটির আরেক সংবাদ সংস্থা তাসনিম ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে নাকচ করে দিয়ে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট অতীতেও একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যতক্ষণ না ইরান একটি সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে ঘোষণা দিচ্ছে, এ বিষয়ে ট্রাম্পের যেকোনো খবরকে তার পূর্ববর্তী বার্তা হিসেবেই গণ্য করা উচিত।’

তবে, পরে ইরানের গণমাধ্যম জানায় যে ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাবিত খসড়া গ্রহণ করেছে এবং এর ফলে চুক্তিটি পুনরায় বিবেচনা ও পর্যালোচনা করতে পারে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি বলেন, ‘খসড়াটির বেশিরভাগ অংশই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আমেরিকানরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতেই থাকল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা তাদের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমায় কোনো আপস করে না। চুক্তির বিষয়ে ইরান এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

ইরান চুক্তি করেছে বলে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল তেহরান

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
ইরান চুক্তি করেছে বলে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল তেহরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনা শুরু করার একটি খসড়া চুক্তিতে ‘অনুমোদন’ দিয়েছে তেহরান। এ কারণে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিলও করেছেন তিনি।

তবে, ইরানের সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেয়নি। তবে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতে স্বাক্ষর করার বিষয়টি তেহরান বিবেচনা করতে পারে, এমন একটি সম্ভাবনা রয়েছে।

আলোচিত এই শান্তি চুক্তির উদ্দেশ্য হলো- প্রণালিটি খুলে দেয়া এবং মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়া, কিন্তু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে যেকোনো চুক্তির জন্য সম্ভবত আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে।

সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সাথে আলোচনা দেশটির নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আনা হয়েছে এবং অনুমোদিত হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে, আজ সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত বোমা হামলা বাতিল করেছি।’

তিনি আরও দাবি করেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিশর।

ইরান যা বলেছে
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের সাথে যুক্ত ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স, ইরানের আলোচনা দলের ঘনিষ্ঠ এক অবহিত সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের কোনো খসড়া অনুমোদিত হয়নি।

দেশটির আরেক সংবাদ সংস্থা তাসনিম ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে নাকচ করে দিয়ে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট অতীতেও একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যতক্ষণ না ইরান একটি সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে ঘোষণা দিচ্ছে, এ বিষয়ে ট্রাম্পের যেকোনো খবরকে তার পূর্ববর্তী বার্তা হিসেবেই গণ্য করা উচিত।’

তবে, পরে ইরানের গণমাধ্যম জানায় যে ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাবিত খসড়া গ্রহণ করেছে এবং এর ফলে চুক্তিটি পুনরায় বিবেচনা ও পর্যালোচনা করতে পারে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি বলেন, ‘খসড়াটির বেশিরভাগ অংশই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আমেরিকানরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতেই থাকল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা তাদের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমায় কোনো আপস করে না। চুক্তির বিষয়ে ইরান এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

সৌদি-তুরস্ক রেল যোগাযোগ চুক্তি, হরমুজ এড়িয়ে যুক্ত করবে আরও ২ দেশকে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
সিরিয়ার দামেস্কে হেজাজ রেলস্টেশনের বাইরে ঐতিহাসিক এক লোকোমোটিভ বা রেল ইঞ্জিন। ছবি: এএফপি

তুরস্ক ও সৌদি আরব রেলপথ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই চুক্তির মাধ্যমে ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথ পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগে সৌদি আরব পরোক্ষভাবে যুক্ত হওয়া সর্বশেষ দেশ হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনরুজ্জীবিত হেজাজ রেলপথ ভবিষ্যতে তুরস্ক, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবকে একই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারে। চুক্তি সইয়ের জন্য তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুলকাদির উরালওগলু মঙ্গলবার রিয়াদ সফর করেন এবং সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উরালওগলু বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় অতিক্রম করছে। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষায়, পরিবহন খাতের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা এখন একটি কৌশলগত প্রয়োজন।

উরালওগলু জানান, তুরস্ক সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাক হয়ে চলাচলকারী পরিবহন রুটগুলোকে সক্রিয় করতে চায়। তিনি বলেন, তুরস্ক থেকে শুরু হয়ে ইরাকের মধ্য দিয়ে সৌদি আরব পর্যন্ত পরিচালিত দুটি পরীক্ষামূলক পরিবহন যাত্রা ইতিমধ্যে এই রুটের কার্যকারিতা ও সম্ভাব্যতা প্রমাণ করেছে।

গত বছর থেকে তুরস্ক একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথ পুনরুদ্ধারে আগ্রহী। একসময় এই রেলপথ ইস্তাম্বুলকে সৌদি আরবের পবিত্র নগরীগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছিল।

হরমুজ প্রণালির বিকল্প করিডর গড়ার পরিকল্পনা
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় হেজাজ রেলপথকে আরও সম্প্রসারণ করে ওমান এবং ভারত মহাসাগর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিকে পাশ কাটিয়ে একটি বিকল্প বাণিজ্য করিডর গড়ে তোলা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তুরস্ক উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। একই সঙ্গে দেশটি রেলভিত্তিক লজিস্টিকস হাব এবং জ্বালানি ও বাণিজ্য করিডরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডান একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার, পরিবহনব্যবস্থার সমন্বয় এবং সীমান্তপারের পরিবহন সহজ করার জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো গড়ে তোলা হয়।

চুক্তিতে সড়ক, রেল, সমুদ্র, আকাশ এবং বহুমাত্রিক পরিবহনব্যবস্থাসহ সব ধরনের পরিবহন খাতে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিগরি মানের সমন্বয়, ডিজিটালাইজেশন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং পরিবহন করিডরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এক শতাব্দীর বেশি পুরোনো স্বপ্ন
হেজাজ রেলপথ ছিল উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। ১৯০০ সালে তিনি ইস্তাম্বুল থেকে মক্কা পর্যন্ত একটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। আরব উপদ্বীপের পশ্চিমাঞ্চলের হেজাজ অঞ্চলের নাম অনুসারে রেলপথটির নামকরণ করা হয়। এই অঞ্চলেই ইসলামের দুই পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা অবস্থিত।

রেলপথটি খুব দ্রুত নির্মিত হয়েছিল এবং এর অর্থায়ন সম্পূর্ণভাবে মুসলিম বিশ্বের অনুদানের মাধ্যমে করা হয়। যদিও কিছু অনুদান স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছিল, আবার কিছু ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও ছিল।

এই সময়ের মধ্যে ইস্তাম্বুলের সঙ্গে সংযুক্ত রেললাইনটি দামেস্ক থেকে মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। এ ছাড়া তৎকালীন ফিলিস্তিনের (বর্তমানে ইসরায়েলের দখলকৃত) হাইফা পর্যন্ত পৌঁছানো একটি শাখা রেললাইনও নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে তুরস্ক, সৌদি আরব, সিরিয়া ও জর্ডানের নতুন সহযোগিতা সেই ঐতিহাসিক রেলপথকে আবারও আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

কুয়েত-বাহরাইনের পর জর্ডান;

১২ ক্ষেপণাস্ত্র ফেলে এফ-৩৫সহ ৩ মার্কিন যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দিল ইরান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
১২ ক্ষেপণাস্ত্র ফেলে এফ-৩৫সহ ৩ মার্কিন যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দিল ইরান

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে তারা ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। খবর আলজাজিরার।

আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ছিল। তারা দাবি করেছে, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ঘাঁটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে।

এই হামলার দাবি আসে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর হামলা চালায় বলে খবর প্রকাশিত হয়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে।

তবে আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আল-আজরাক অঞ্চলের দিকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারাও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আঘাতে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য;

সব ধরনের নৌযানের জন্য হরমুজ বন্ধ করল ইরান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
সব ধরনের নৌযানের জন্য হরমুজ বন্ধ করল ইরান

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে ‘কঠোর’ বিমান হামলা শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই হামলা চালানো হয়।

বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে এবং ইরানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর এসব হামলা শুরু হয়।

সেন্টকমের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে হামলাগুলো চালানো হচ্ছে। পোস্টে বলা হয়, ‘ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।’

সংবাদ মাধ্যম ইউরো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পশ্চিম তেহরান, কিশ দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, কেশম ও মিনাবে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। পাশাপাশি ফার্স প্রদেশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের (ইরানের) ওপর হামলা চালাব, এবং খুব কঠোরভাবে হামলা চালাব।’

তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাই নতুন হামলার যৌক্তিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শান্তি আলোচনা নিয়ে তেহরানের প্রতিনিধিরা ‘আমাদেরকে বোকা বানাচ্ছে’। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।

এদিকে, ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড তেলবাহী ট্যাংকার এবং বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো নৌযান এই প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশপথে ধেয়ে আসা শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকটি বৈরী লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে প্রতিহত করেছে। বুধবার (১০ জুন) ভোরে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় তাদের ডিফেন্স সিস্টেম বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।

এর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনেও সম্ভাব্য বিমান হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে।


কুয়েত সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি জরুরি বার্তায় দেশের সাধারণ বাসিন্দাদের আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত সকল নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

একই সাথে যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি এড়াতে নাগরিকদের শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। কুয়েত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সামরিক ইন্টারসেপ্ট বা প্রতিহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত অন্য কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


উদ্ভূত এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘আইআরজিসি’ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে কুয়েত ও বাহরাইনে একযোগে ড্রোন হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে। আইআরজিসি দাবি করেছে যে আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে তারা কুয়েতে অবস্থিত ‘আলি আল সালেম’ ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এর পাশাপাশি বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী ও কৌশলগত পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করেও পৃথক একটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।

ইরানের এই বহুমুখী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানটি মূলত আজ বুধবার ভোরের দিকে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান বাহিনীর চালানো আকস্মিক বোমাবর্ষণের পর পরই সংগঠিত হয়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বাড়ার পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

মার্কিন সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা দক্ষিণ ইরানে তাদের ভাষায় একটি ‘আত্মরক্ষামূলক’ বিমান হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দুই পক্ষের এই সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।