১১ জুন ২০২৬

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে ইরানের হামলা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে ইরানের হামলা

দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন ও আশঙ্কাজনক মোড় নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে এবার বাহরাইনে অবস্থিত আমেরিকার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।

একই সঙ্গে ইরান হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের এই আক্রমণ অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও সর্বাত্মক পাল্টা আঘাত হানা হবে। বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘আইআরজিসি’ বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে এই সফল ড্রোন হামলা চালানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে। আইআরজিসি তাদের কড়া ভাষার বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে দুই পক্ষের মধ্যে এই সামরিক সংঘর্ষ এখনো চলমান রয়েছে। আমেরিকার যেকোনো ধরনের নতুন সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং এর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শুভ হবে না।

বিবৃতিতে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন বিমানবাহিনী দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে রাতভর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। আমেরিকার এই বর্বরোচিত বিমান হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ টাওয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ বেসামরিক মানুষের ব্যবহারের দুটি পানির ট্যাংক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

এই ঘটনার পরপরই ইরান পাল্টা আঘাত হানলে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয় এবং বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের দেশের সাধারণ জনগণকে শান্ত থেকে নিকটতম নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

তেহরান থেকে আল জাজিরার বিশেষ সংবাদদাতা মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিটি ছিল মূলত সাধারণ সতর্কবার্তা। তবে আইআরজিসি এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর উভয় সামরিক বিভাগই নিশ্চিত করেছে যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।

তবে বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে কেবল বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান ঘাঁটির কথাই বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অভিযানে ঠিক কতটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা কোনো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সামরিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের অপর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজেদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে ঠুনকো অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে দক্ষিণ ইরানে আমেরিকা যে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে, তার মোক্ষম জবাব দিতেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি যৌথভাবে এই শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

যৌথ কমান্ডের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে খুব ভালো করে বুঝতে হবে যে তারা যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কোনো ধরনের ধৃষ্টতা দেখায়, তবে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নির্ধারিত সকল লক্ষ্যবস্তুতে আরও তীব্র, নিখুঁত ও ব্যাপক আকারে হামলা চালানো হবে।

কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশপথে ধেয়ে আসা শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকটি বৈরী লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে প্রতিহত করেছে। বুধবার (১০ জুন) ভোরে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় তাদের ডিফেন্স সিস্টেম বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।

এর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনেও সম্ভাব্য বিমান হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে।


কুয়েত সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি জরুরি বার্তায় দেশের সাধারণ বাসিন্দাদের আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত সকল নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

একই সাথে যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি এড়াতে নাগরিকদের শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। কুয়েত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সামরিক ইন্টারসেপ্ট বা প্রতিহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত অন্য কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


উদ্ভূত এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘আইআরজিসি’ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে কুয়েত ও বাহরাইনে একযোগে ড্রোন হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে। আইআরজিসি দাবি করেছে যে আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে তারা কুয়েতে অবস্থিত ‘আলি আল সালেম’ ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এর পাশাপাশি বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী ও কৌশলগত পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করেও পৃথক একটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।

ইরানের এই বহুমুখী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানটি মূলত আজ বুধবার ভোরের দিকে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান বাহিনীর চালানো আকস্মিক বোমাবর্ষণের পর পরই সংগঠিত হয়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বাড়ার পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

মার্কিন সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা দক্ষিণ ইরানে তাদের ভাষায় একটি ‘আত্মরক্ষামূলক’ বিমান হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দুই পক্ষের এই সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

জর্ডানের একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ‘আইআরজিসি’ মহাকাশ শাখা দাবি করেছে যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা ওই ঘাঁটিতে তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

এই হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি তাদের এক বিশেষ বিবৃতিতে দাবি করেছে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উক্ত ঘাঁটির প্রধান চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণটি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী হামলার জবাবে নেওয়া ইরানের এক বৃহত্তর পাল্টা সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত ধাপ।

এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা চালিয়েছে এবং একই সময়ে ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা আমেরিকার একটি ‘এমকিউ-৯’ ড্রোনও সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

বিবৃতির শেষাংশে আইআরজিসি মার্কিন প্রশাসনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছে যে ওয়াশিংটনের পরবর্তী যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তাদের সশস্ত্র বাহিনী আরও ‘বিধ্বংসী ও চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এর বাইরে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে দুই পক্ষের মধ্যকার বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত ও বিপজ্জনক রূপ নেয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার এককভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

ইরানের এই ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েতের সেনাবাহিনী এক জরুরি বার্তা প্রকাশ করেছে। কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে যে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘আকাশপথে আসা শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি বিশেষ পোস্টে কুয়েতি সেনাবাহিনী দেশের সাধারণ বাসিন্দাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত সকল সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে।

কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আরও অনুরোধ জানানো হয়েছে যে তারা যেন যুদ্ধের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে এবং সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি সূত্রের ওপরই পূর্ণ নির্ভর করেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই আকস্মিক ও বহুমুখী সামরিক সংঘাতের ফলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে ইরানের হামলা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে ইরানের হামলা

দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন ও আশঙ্কাজনক মোড় নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে এবার বাহরাইনে অবস্থিত আমেরিকার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।

একই সঙ্গে ইরান হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের এই আক্রমণ অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও সর্বাত্মক পাল্টা আঘাত হানা হবে। বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘আইআরজিসি’ বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে এই সফল ড্রোন হামলা চালানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে। আইআরজিসি তাদের কড়া ভাষার বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে দুই পক্ষের মধ্যে এই সামরিক সংঘর্ষ এখনো চলমান রয়েছে। আমেরিকার যেকোনো ধরনের নতুন সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং এর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শুভ হবে না।

বিবৃতিতে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন বিমানবাহিনী দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে রাতভর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। আমেরিকার এই বর্বরোচিত বিমান হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ টাওয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ বেসামরিক মানুষের ব্যবহারের দুটি পানির ট্যাংক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

এই ঘটনার পরপরই ইরান পাল্টা আঘাত হানলে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয় এবং বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের দেশের সাধারণ জনগণকে শান্ত থেকে নিকটতম নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

তেহরান থেকে আল জাজিরার বিশেষ সংবাদদাতা মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিটি ছিল মূলত সাধারণ সতর্কবার্তা। তবে আইআরজিসি এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর উভয় সামরিক বিভাগই নিশ্চিত করেছে যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।

তবে বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে কেবল বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান ঘাঁটির কথাই বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অভিযানে ঠিক কতটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা কোনো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সামরিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের অপর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজেদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে ঠুনকো অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে দক্ষিণ ইরানে আমেরিকা যে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে, তার মোক্ষম জবাব দিতেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি যৌথভাবে এই শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

যৌথ কমান্ডের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে খুব ভালো করে বুঝতে হবে যে তারা যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কোনো ধরনের ধৃষ্টতা দেখায়, তবে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নির্ধারিত সকল লক্ষ্যবস্তুতে আরও তীব্র, নিখুঁত ও ব্যাপক আকারে হামলা চালানো হবে।

হেলিকপ্টার ভূপাতিতের বদলা:

ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী হামলা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী হামলা

মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জেরে মঙ্গলবার (৯ জুন) স্থানীয় সময় রাতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে এবং প্রণালীটির বন্দর নগরী সিরিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রথম দফার হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের জাস্ক ও বন্দর আব্বাস শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণ পর দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম একে তৃতীয় দফার হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে এক পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না।

এর আগে, মঙ্গলবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর টহলরত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার আগের রাতে ভূপাতিত করেছে ইরান। ট্রাম্প বলেন, ‘এই হামলার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনিবার্য।’

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রতিবেদক বারাক রাভিদের উদ্ধৃতিতে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে অবস্থিত ইরানের বেশ কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই হামলা যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা ব্যাহত করবে বলে ওয়াশিংটন মনে করে না। এটি মূলত একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করেন সেই কর্মকর্তা।

জানা যায়, হামলার ঘোষণা দেওয়ার ঠিক আগে এবিসি নিউজের প্রধান ওয়াশিংটন সংবাদদাতা জোনাথন কার্লের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হবে ‘খুবই শক্তিশালী’।

হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ‘অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ০৯, ২০২৬
হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ‘অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর একটি ‘অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার ওই ঘটনার পর হেলিকপ্টারের দুই ক্রকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত দুজন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের একজন জানান, অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি ইরানি বাহিনীর হামলায় ভূপাতিত হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির মুখোমুখি হয়েছিল নাকি অন্য কোনো সমস্যায় পড়েছিল— তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

হরমুজ ঘিরে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলাও হয়েছে। সেই সংঘাত থামার পর এই ঘটনা ঘটল। এর মধ্যে সোমবার ইসরায়েল ও ইরান ফের সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সোমবার রাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আগে ট্রাম্প প্রশাসনও বিষয়টি প্রকাশ করেনি। ট্রাম্পের একজন মুখপাত্রকে জিজ্ঞাসা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এ ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, সশস্ত্র এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং এফ/এ-১৮ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আসছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান প্রায় ৩০টি চালকহীন রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং শত্রুপক্ষ ও নিজেদের বাহিনীর ভুলে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। তবে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার হারানোর এটিই প্রথম ঘটনা।

হেলফায়ার মিসাইলে সজ্জিত এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি গানশিপ এই অঞ্চলে নিয়োজিত অন্যতম শক্তিশালী ও কার্যকর যুদ্ধযান। ছোট নৌকার হামলা ঠেকাতে এবং ড্রোন ভূপাতিত করতে এগুলো কৌশলগত জলসীমাটিতে টহল দিয়ে আসছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আগ্রাসী অবস্থানের অংশ হিসেবে হেলিকপ্টারগুলো প্রায়শ ইরানি ভূখণ্ডের— যার মধ্যে প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপগুলোও রয়েছে— আরও কাছাকাছি চলে যায়।