১১ জুন ২০২৬
দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন

নয়াদিল্লীতে বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ বৈঠক; সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধের তাগিদ

তারকাঁটার বেড়া কেটে ফেলা ও সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ বিএসএফের, ১৫০ গজের মধ্যে স্থাপনা করতে চাইলে বিজিবিকে জানাতে হবে
প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
নয়াদিল্লীতে বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ বৈঠক; সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধের তাগিদ

ভারতের নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে দুই দেশের পক্ষ থেকে এজেন্ডাসমূহ উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়।

এর আগে গত সোমবার বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লীতে সম্মেলনে অংশ নিতে পৌঁছে। অপরদিকে বিএসএফের প্রধান প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।

সম্মেলন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সম্মেলনে বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি ও এই পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে বক্তব্য উত্থাপন করেন। ডিজি সম্প্রতি বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার জনগোষ্ঠীদের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এছাড়া সীমান্ত হত্যা নিয়েও উদ্বেগ জানান। এই হত্যার ঘটনা জিরোতে আনার জন্য দুই দেশকে আরো গভীরভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান।

বিএসএফের ডিজি প্রবীন কুমার তার বক্তব্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের অতীতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী দুই দেশের শক্রু। অপরাধীদের কোনো দেশ নেই।’

পরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিজিবির এডিজি (অপারেশন্স) বৈঠকের এজেন্ডা উত্থাপন করেন। ভারতীয় নাগরিক ও দুষ্কৃতকারী কর্তৃক সীমান্ত হত্যার তথ্য উত্থাপন করেন। সীমান্তে নন-ল্যাথাল (প্রাণঘাতি নয়) অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। বলা হয় নন-ল্যাথাল অস্ত্র ব্যবহারের কথা থাকলেও সীমান্তে বেসামরিক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।

পুশইন বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দুই দেশকে একমত হওয়ার আহবান জানানো হয়। এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অন্যান্য অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের এজেন্ডা উত্থাপন করা হয়।

বিশেষ করে সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে জিরোলাইন থেকে ভারতের দেড়শ গজের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এজন্য ১৯৭৫ সালে দুই দেশের বিডিআর-বিএসএফ মধ্যে সীমান্ত চুক্তি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের নিষ্পত্তির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, উত্থাপন করা এজেন্ডাগুলোর মধ্যে তিনবিঘা করিডোর দিয়ে পাটগ্রাম থেকে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, আগরতলা থেকে আখাউড়াগামী ৪টি খালের বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ইটিপি স্থাপন, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান, তাদের কর্মকা্ল সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান ও সন্ত্রাসীদের তালিকা জমা দেওয়া হয়।

এছাড়া আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রোন ও হেলিকপ্টার উড্ডয়ন বন্ধ, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচার বন্ধ এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

পরে বিএসএফের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি এজেন্ডা উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো বাংলাদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার সীমান্তে গত ৬ মাসে বাংলাদেশী নাগরিক দ্বারা বেশ কয়েকজন বিএসএফ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বলা হয়।

এছাড়া ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা প্রবেশ করে চুরি, ডাকাতি ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

ভারতের সীমান্তে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ বিজিবির বাধার মুখে বন্ধ হয়ে আছে, ওইসব কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য বিজিবির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এছাড়া আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, ভারতে অপরাধীদের প্রবেশ রোধ, বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, দুই বাহিনীর মধ্যে আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ এবং সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একাধিক এজেন্ডা বৈঠকে উত্থাপন করা হয় বিএসএফের পক্ষ থেকে।

১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক

সংকটে পড়ে আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত এক সপ্তাহে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকেরা পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত তুলে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকের চাহিদা সামাল দিতে মঙ্গলবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানান, ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। এরপর গত দুই দিনেও আমানত আরও কমেছে বলে জানা যায়।

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এরপর থেকেই ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ এর ব্যানারে চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলন চলছে। গ্রাহকদের ‘যৌক্তিক’ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। টানা কর্মসূচির কারণে অনেক গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তারা আমানত তুলে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মঙ্গলবারও (১০ জুন) নবম দিনের মতো কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম ও বিতর্কের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ায় তারা আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আন্দোলন করা গ্রাহকদের দাবির মধ্যে আরও রয়েছে ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত কাউকে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে না রাখা, ব্যাংক রেজোল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮ (ক) ধারা বাতিল, এস আলমের দখল করা মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থের সমন্বয়, শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, এস আলম যাতে কোনো ব্যাংকেই ফিরতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা, ইসলামী ব্যাংকসহ সব ব্যাংক লুটকারীকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

জানা যায়, শেয়ারবাজার থেকে নামে–বেনামে শেয়ার কিনে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপ। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের দখলমুক্ত হয়। এরপর থেকে ব্যাংকটি পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা।

ব্যাংকটির ৫০ শতাংশ ঋণ এখন খেলাপি। ব্যাংকটি এখন আর্থিক সংকটে ভুগছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটি। এর আগেও বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নানা ধরনের সুবিধা নিয়েছিল।

ঢাকা সেনানিবাসে বৈঠক: প্রতিরক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা আরও বাড়বে, আশা বাংলাদেশের

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
ঢাকা সেনানিবাসে বৈঠক:  প্রতিরক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা আরও বাড়বে, আশা বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা আগামী দিনে আরও বেগবান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিল।

আইএসপিআর আরও জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ সময় বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং প্রতিরক্ষা খাতে এই সহযোগিতা আগামী দিনে আরও বেগবান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

রাশিয়ায় যাবে ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী, সম্মত রুশ কর্তৃপক্ষ!

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে আগামী বছরের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি ১ লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রা‌শিয়ার স‌ঙ্গে আলোচনা ক‌রেছে‌ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে রাশিয়া।

মঙ্গলবার (৯ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এ তথ্য জানা‌নো হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি রাশিয়ায় কাজ করছেন। সেখানে জনশক্তি রপ্তানি এক লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দেয়া হ‌লে তারা দ্রুত এ বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়। উভয়পক্ষ শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও উভয়পক্ষ একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধের দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর জোর দেন।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় বিশেষ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সহ‌যো‌গিতা নি‌য়ে আলোচনা হ‌য়। কৃষি ও স্বাস্থ্যে এআই-এর প্রয়োগের বিষয়ে রা‌শিয়ার একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসার বিষ‌য়ে সম্মতি জানায়।

রাশিয়ান ফেডারেশনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল মস্কো সফর করেন। সফরকালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজ আয়োজন করেন।

মধ্যাহ্নভোজে দুই দেশের প্রতিনিধিরা অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে এত উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিদলকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই সফর বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরো সুদৃঢ় করার অভিন্ন আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দেশে স্বর্ণের দামে ফের পতন, ভরিতে কমলো কত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম তৃতীয় দফায় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
দেশে স্বর্ণের দামে ফের পতন, ভরিতে কমলো কত

বুধবার (১০ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, সবশেষ গত ৬ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭২ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৭ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৫ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

১১০ প্রতিষ্ঠানে ৫৫ কর্মমুখী কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চলছে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ০৯, ২০২৬
১১০ প্রতিষ্ঠানে ৫৫ কর্মমুখী কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চলছে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

দেশের কর্মক্ষম যুবশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং দেশ-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় ব্যাপক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

তিনি আজ সংসদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য আনিছুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি)-সহ মোট ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৫টি কর্মসংস্থান উপযোগী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রেড ও কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিবছর ১২ লাখেরও বেশি প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশীয় শ্রমবাজারের পাশাপাশি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করছেন, যা দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নূরুল হক বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন ‘৫০টি উপজেলায় ৫০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো আধুনিক ও চাহিদা ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা, যাতে তারা বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রশিক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ, নতুন ট্রেড চালু এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।