মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জেরে মঙ্গলবার (৯ জুন) স্থানীয় সময় রাতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে এবং প্রণালীটির বন্দর নগরী সিরিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা যায়, প্রথম দফার হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের জাস্ক ও বন্দর আব্বাস শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণ পর দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম একে তৃতীয় দফার হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে এক পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না।
এর আগে, মঙ্গলবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর টহলরত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার আগের রাতে ভূপাতিত করেছে ইরান। ট্রাম্প বলেন, ‘এই হামলার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনিবার্য।’
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রতিবেদক বারাক রাভিদের উদ্ধৃতিতে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে অবস্থিত ইরানের বেশ কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই হামলা যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা ব্যাহত করবে বলে ওয়াশিংটন মনে করে না। এটি মূলত একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করেন সেই কর্মকর্তা।
জানা যায়, হামলার ঘোষণা দেওয়ার ঠিক আগে এবিসি নিউজের প্রধান ওয়াশিংটন সংবাদদাতা জোনাথন কার্লের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হবে ‘খুবই শক্তিশালী’।