১৩ জুন ২০২৬
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হামলা বন্ধের শর্তে

রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : রয়টার্স

প্রকাশ: শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : রয়টার্স
ফাইল ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী রবিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। পশ্চিমা একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এ চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।

দুই পক্ষই শনিবার (১৩ জুন) এর মধ্যে স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করতে আগ্রহী। এরপর রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ চুক্তিতে সই করতে পারেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা বাতিল করছেন। তার ভাষ্য ছিল, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি এখন প্রায় প্রস্তুত।

তবে শুক্রবার (১২ জুন) ইরানি কর্মকর্তাদের বর্ণিত শর্তগুলোতে দেখা যায়, তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের বেশ কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রত্যাশিত বিষয়গুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছিল।

শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, খসড়া চুক্তির আওতায় ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি দেশটির আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করা হবে। এছাড়া লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে হামলা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে পারমাণবিক ইস্যুতে এই সমঝোতা স্মারকে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত থাকছে না। বিষয়টি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন চায়, ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে—এমন নিশ্চয়তা। অন্যদিকে, তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করছে না।

ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা। তবে এসবের বিনিময়ে ইরান কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দেবে, সে বিষয়ে সূত্রটি কোনো তথ্য দেয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির শর্তে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ছাড় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের অঙ্গীকার এবং যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ও রয়েছে।

মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হামলা বন্ধের শর্তে

রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : রয়টার্স

প্রকাশ: শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : রয়টার্স
ফাইল ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী রবিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। পশ্চিমা একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এ চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।

দুই পক্ষই শনিবার (১৩ জুন) এর মধ্যে স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করতে আগ্রহী। এরপর রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ চুক্তিতে সই করতে পারেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা বাতিল করছেন। তার ভাষ্য ছিল, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি এখন প্রায় প্রস্তুত।

তবে শুক্রবার (১২ জুন) ইরানি কর্মকর্তাদের বর্ণিত শর্তগুলোতে দেখা যায়, তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের বেশ কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রত্যাশিত বিষয়গুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছিল।

শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, খসড়া চুক্তির আওতায় ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি দেশটির আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করা হবে। এছাড়া লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে হামলা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে পারমাণবিক ইস্যুতে এই সমঝোতা স্মারকে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত থাকছে না। বিষয়টি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন চায়, ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে—এমন নিশ্চয়তা। অন্যদিকে, তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করছে না।

ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা। তবে এসবের বিনিময়ে ইরান কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দেবে, সে বিষয়ে সূত্রটি কোনো তথ্য দেয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির শর্তে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ছাড় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের অঙ্গীকার এবং যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ও রয়েছে।

মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেকর্ড, ছাড়িয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে

প্রকাশ: শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেকর্ড, ছাড়িয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ স্থায়িত্বের দিক থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মোট সময়সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর গত ১১ জুন এই যুদ্ধ এক নতুন ও দীর্ঘস্থায়ী মাইলফলক স্পর্শ করল।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই শুরু হওয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৬৭ দিন স্থায়ী হয়েছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ ইতিমধ্যে সেই সময়সীমা পার করে আজ পর্যন্ত ১ হাজার৫৭০ দিনে পদার্পণ করেছে। আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংঘাতের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও আর্থিক বিপর্যয়

দীর্ঘস্থায়ী যেকোনো যুদ্ধের মতোই এই সংঘাতের সঠিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা কঠিন হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতি ও ব্যয়ের পরিমাণ ইতিমধ্যে ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে।

আর্থিক ক্ষতির চেয়েও এই যুদ্ধে মানুষের প্রাণের ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব মতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত, বাস্তুচ্যুত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা হিসাব করলে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

এই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। উন্নত জীবনের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে রাশিয়ায় যাওয়া অন্তত ৪০ জন বাংলাদেশি তরুণ ইউক্রেন ফ্রন্টে সম্মুখ যুদ্ধে বাধ্য হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

আড়ালে পড়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ?

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা সাময়িকভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আড়ালে ঠেলে দিয়েছে। তবে মাঠের লড়াই কিংবা কূটনৈতিক টানাপোড়েন—কোনোটিই থেমে নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক চেষ্টা চালালেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

জেলেনস্কির খোলা চিঠি ও পুতিনের প্রতিক্রিয়া

যুদ্ধ বন্ধের নানামুখী তৎপরতার অংশ হিসেবে গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো নিরপেক্ষ দেশে পুতিনের সাথে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাব দেন। ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করলেও এর সাথে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়।

তবে ক্রেমলিন এই শর্তযুক্ত আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইউক্রেনের অধিকাংশ সাধারণ নাগরিক মনে করছেন আগামী বছরের আগে এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। ফলে যুদ্ধ এভাবে চলতে থাকলে এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্বের রেকর্ডকেও স্পর্শ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

কাতার, আরব আমিরাত ও পাকিস্তান ‘বোঝানোর’ পর ইরানে হামলা থেকে পিছু হটেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচমকা ইরান আক্রমণের হুমকি ও কঠোর হুঁশিয়ারির পর শেষ মুহূর্তে যুদ্ধ এড়াতে মরিয়া কূটনৈতিক চেষ্টায় সফল হয়েছেন কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা।
প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
কাতার, আরব আমিরাত ও পাকিস্তান ‘বোঝানোর’ পর ইরানে হামলা থেকে পিছু হটেছেন ট্রাম্প

বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন—'আজ রাতেই ইনে কঠিন আঘাত হানব'। এই পোস্টের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলাতে মরিয়া চেষ্টায় নেমে যান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ফোন করে তারা বলেন, একটি প্রাথমিক চুক্তি একেবারে হাতের নাগালে, যা আগামীতে আরও বিস্তারিত আলোচনার পথ খুলে দেবে।

মার্কিন প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত একজন কূটনীতিক নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, এই ফোনকলগুলো ফোন করেছিলেন কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের বিশ্বাস, তেহরান ও সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির ওপর এই দেশগুলোর ভালো প্রভাব রয়েছে। চুক্তি যে প্রায় চূড়ান্ত—তাদের এই আশ্বাস পেয়েই শেষ মুহূর্তে ইরান আক্রমণের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসেন ট্রাম্প।

এরপর ট্রাম্প নিজেই ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা করেন, চলতি সপ্তাহান্তেই (উইকএন্ড) চুক্তি সই হয়ে যেতে পারে।

পরে বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'ইরান যুদ্ধের একটা দারুণ চুক্তি করে ফেলেছি আমরা। এখন শুধু নথিপত্র চূড়ান্ত করার অপেক্ষা। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব শেষ হবে।'

তবে ইরান বলছে অন্য কথা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই বলেছেন, আলোচনার টেক্সটের বড় একটি অংশ চূড়ান্ত হলেও নিজেদের রেডলাইন কোনো আপস করবে না তেহরান।

'চুক্তির ব্যাপারে ইরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি,' বলেন তিনি।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তারপরও মার্কিন ও আরব কর্মকর্তারা আশাবাদী যে ট্রাম্পের এই ঘোষণা হয়তো বাস্তব চুক্তিরই পূর্বাভাস। যদিও চার মাস ধরে চলা এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথে এখনো বিস্তর বাধা রয়ে গেছে।

একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও এই কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে অবগত একজন ব্যক্তি বলেন, আপাতত আলোচনার টেবিলে কেবল দুটি বিষয় রয়েছে—হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসে জানিয়েছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আরও সময় লাগবে; হরমুজ উন্মুক্ত করাটা কেবল প্রথম পদক্ষেপ।

আর খামেনেই আদৌ এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধের শুরুর দিকেই গুরুতর জখম হয়েছেন তিনি। এখন তিনি এমন জায়গায় আছেন, সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নেই। ফলে যেকোনো প্রস্তাবে তার মতামত আসতে কয়েক দিন লেগে যাচ্ছে।

অনেক কূটনীতিবিদই অবশ্য খামেনির সম্মতির বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। একজন আরব কূটনীতিবিদ বলেন, 'নিজের চোখে না দেখা পর্যন্ত আমি এটা বিশ্বাস করছি না।'

হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের তথ্যমতে, চুক্তির সত্যতা নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসন আসলে কার সাথে আলোচনা করছে তার ওপর। ওই সূত্র বলেছে, 'আলোচনা যদি (ইরানের) রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে হয়ে থাকে, তবে তা বাস্তব। কিন্তু পক্ষটি যদি হয় আইআরজিসি, তাহলে ভরসা কম।'

গত কয়েক দিনে কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একের পর এক প্রস্তাব চালাচালি হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু না হওয়ায় ট্রাম্পের ধৈর্যচ্যুতি ঘটছিল। ইরান তাকে কেবল ঘোরাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

এরইমধ্যে চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতি আবার তেতে ওঠে। ইরান একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করলে দুই পক্ষ নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে। মূলত ইরানকে দ্রুত চুক্তিতে বাধ্য করতেই ট্রাম্প এই চাপ সৃষ্টির কৌশল নেন।

আলোচনার খসড়া সম্পর্কে অবগত এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা এবং অপর এক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই দরকষাকষির অংশ হিসেবে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের ১৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ছাড় করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে আমেরিকা এই অর্থ কেবল নির্দিষ্ট কিছু কেনাকাটায় ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হলে ব্যাংকগুলোকে এই অর্থ ছাড় না করার নির্দেশ দেয় ওয়াশিংটন।

গত সপ্তাহে রুবিও কংগ্রেসে বলেছিলেন, কেবল হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য ইরানের ওপর থেকে কোনো আগাম নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে না। সেটি সম্ভব কেবল পরবর্তী আলোচনাগুলোতে, যেখানে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ মানতে রাজি হবে।

তবে নির্দিষ্ট কিছু কেনাকাটার জন্য এই আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হলে ইরানের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে পারে। তেহরানের দাবি ছিল, পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়ে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই তাদের অর্থনৈতিক স্বস্তি দিতে হবে।

তবে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য চুক্তিই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতেই তিনি ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণের জন্য প্ররোচিত করেছিলেন।

যুক্তরাজ্যে সুদানের অভিবাসীর ছুরিকাঘাত থেকে বিক্ষোভ-সহিংসতা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
যুক্তরাজ্যে সুদানের অভিবাসীর ছুরিকাঘাত থেকে বিক্ষোভ-সহিংসতা

যুক্তরাজ্যে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক অভিবাসীর ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়েছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাতে শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন, যাঁদের অধিকাংশই মুখে মাস্ক পরে ছিলেন। এ সময় একটি বাসসহ কয়েকটি গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া হয়। সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

বিবিসি এক খবরে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত সোমবার (৮ জুন) রাতে একটি হামলার সূত্র ধরে এই সহিংসতার শুরু। সুদানের নাগরিক হাদি আলোদিদের ছুরিকাঘাতে স্টিভেন ওগিলভি নামের একজন গুরুতর আহত হন। অভিযুক্তকে আটক করে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, এনএইচএসের একজন রেডিওগ্রাফারকে হত্যার হুমকি এবং ছুরি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ বুধবার তাঁকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছ, সুদানের নাগরিক হাদি ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তাঁকে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়।

স্টিভেন ওগিলভিকে হামলার একটি ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তেই শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় তারা ‘ফরেইনার্স আউট’ বা ‘বিদেশিরা বেরিয়ে যাও’ বলে স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। তবে বেশির ভাগ হামলা হয়েছে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে। বেলফাস্টে এক আফ্রিকান পরিবারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ইউক্রেন থেকে আসা এক কিশোরী জানান, তাঁদের বাড়ির সদর দরজায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলে তিনি পালিয়ে আসেন। আগুন দেওয়া হয় সিটি সেন্টারের একটি বাড়িতে। এর অধিবাসীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে ডাস্টবিনে আগুন ধরায় এবং পরে পেট্রল বোমা ছুড়ে মারে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন, ভুক্তভোগীদের জাতিগত পরিচয় জেনেই সহিংসতা চালানো হয়েছে। সরকার এসব বরদাশত করবে না।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের সহিংসতা কাপুরুষোচিত। একদল লোক মাস্ক পরে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে মানুষকে ঘর ছাড়া করছে।

ও’নিল বলেন, বর্ণবাদ, ভীতি ছড়ানো এবং সহিংসতা সব সময়ই নিন্দনীয়। আজকের এই হামলার কোনো অজুহাত মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের শহরে এমন ঘটনা কেউ আর দেখতে চায় না। আমি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের নতুন বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) আফগান সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলমান ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে ইতিমধ্যে কয়েক শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান যে পাকিস্তানের এই সাম্প্রতিক বিমান হামলাগুলো মূলত আফগানিস্তানের খোস্ত, কুনার এবং পাক্তিকা প্রদেশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। তবে এই বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা শিকারোক্তি পাওয়া যায়নি।


আফগানিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হাসান খেল এলাকায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে সন্দেহভাজন পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের হামলার ঠিক এক দিন পর এই বিমান হামলা চালানো হলো। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ওই তীব্র বন্দুকযুদ্ধে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির ৬ জন সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে ৮ জন হামলাকারীকে হত্যা করে এবং চেকপোস্ট দখলের চেষ্টা নসাৎ করে দেয়। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহসিন নাকভি পেশোয়ারে নিহতদের জানাজায় অংশ নিয়ে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে আফগানিস্তান কর্তৃক পাকিস্তানের অভ্যন্তরে পাল্টা সীমান্ত হামলার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তানে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয় বলে আফগানিস্তান দাবি করে। তবে পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করে জানায় যে তারা কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নয়, বরং একটি গোলাবারুদের ডিপোতে আঘাত হেনেছিল।

এই নতুন সামরিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে তৈরি হলো যার মাত্র কয়েক মাস আগে চীন উত্তর অঞ্চলের উরুমকিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি বিশেষ শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছিল। ওই বৈঠকের পর বেইজিং জানিয়েছিল যে দুই দেশই সংঘাত আর না বাড়াতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে সম্মত হয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান তাদের মাটিতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা ‘টিটিপি’র মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে ক্রমাগত আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে। তবে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকা আফগান তালেবান প্রশাসন ইসলামাবাদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র: এনডিটিভি