১৯ জুন ২০২৬

প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব সরকার পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে অভিবাসী কর্মী ও প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্টসেবা আরও সহজ ও সহজলভ্য করতে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে তিনি এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৬ সালের ৪ জুন পর্যন্ত দেশে সক্রিয় পাসপোর্টধারীর সংখ্যা ২ কোটি ৫৪ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩ জন।

তিনি জানান, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ফি কমানোর বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদফতর থেকে প্রাপ্ত একটি প্রস্তাব বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টের আবেদন সহজ করতে বিভিন্ন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে মোবাইল এনরোলমেন্ট কিটের (এমইকে) মাধ্যমে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মিশনগুলোতে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের পাসপোর্টসেবা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পাসপোর্ট দ্রুত পৌঁছে দিতে সরকার আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ফেডএক্সের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতে পাসপোর্ট পাঠাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কম্বোডিয়ায় ৪ লাখ টাকায় বিক্রি: দেশে ফিরলেন ২২১ বাংলাদেশি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
কম্বোডিয়ায় ৪ লাখ টাকায় বিক্রি: দেশে ফিরলেন ২২১ বাংলাদেশি

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ২৮ বছর বয়সী যুবক মো. তালাত মাহমুদ বায়েজিদ। কম্বোডিয়ায় একটি বৈধ আইটি প্রতিষ্ঠান বা শপিং মলে চাকরি পাবেন—এমনটাই আশা ছিল তার। কিন্তু সেই আশা নিয়ে দেশ ছাড়লেও মানবপাচারকারীরা তাকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি চীনা সাইবার ক্রাইম সেন্টারের কাছে বিক্রি করে দেয়।

সম্প্রতি কম্বোডিয়ার এমন অবৈধ বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরে আসা ২২১ জন বাংলাদেশির মধ্যে বায়েজিদ একজন। ভুয়া চাকরির প্রলোভনে পড়ে তারা সেখানে বন্দি ছিলেন।

দালাল কাউসার হাবিবের মাধ্যমে বায়েজীদের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শুরু। বিদেশে কাজের জন্য কাউসার হাবিবের সাথে বায়েজিদের ৭ লাখ টাকার চুক্তি হয়। বায়েজিদ ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং তার পাসপোর্ট দালালের হাতে তুলে দেন। এরপর ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর তিনি কম্বোডিয়ার টেচো বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাকে ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছে। বিমানবন্দরে নামার পর মিন্টু ও সাইফুল নামে স্থানীয় দুই দালাল তাকে রিসিভ করে একটি হোটেলে আটকে রাখে। পরে তারা বায়েজিদকে সাইবার অপরাধ চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়।

ওই বন্দিশালার ভেতরে এক চীনা নাগরিক বায়েজিদকে আটকে রেখে কঠোর পরিশ্রম ও নির্যাতন করতে থাকে। বায়েজিদের পরিবার ৩ হাজার ডলার মুক্তিপণ দেওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। শেষ পর্যন্ত তিনি “ব্যাক মাইগ্রেশন” নামক একটি উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন এবং বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগেরই জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বৈধ ছাড়পত্র ছিল। কিন্তু চীনা চক্রের সাথে হাত মেলানো বাংলাদেশি দালালদের একটি নেটওয়ার্কের কারণে তারা প্রতারণার শিকার হন।

নির্যাতন সেল এবং ইলেকট্রিক শক

ভুক্তভোগীরা শরীরে নির্যাতনের গভীর চিহ্ন নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তারা জানান, তাদেরকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে আর্থিক প্রতারণার কাজ করতে বাধ্য করা হতো। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে পারতেন না কিংবা কাজে অস্বীকৃতি জানাতেন, তাদেরকে নির্যাতন সেলে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে লোহার রড দিয়ে পেটানো হতো এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো।

সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি বড় ধরনের চিরুনি অভিযান চালায়। এই অভিযানের কারণে চীনা অপরাধীরা সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ফলে বন্দি বাংলাদেশিরা সেখান থেকে পালিয়ে আসার সুযোগ পান।

কম্বোডিয়া থেকে ফিরে আসা এই ভুক্তভোগীদের মনে এবং শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান, বন্দিদের ছোট ছোট কামরায় আটকে রাখা হতো এবং কোটা পূরণের জন্য দিনরাত অনলাইন আর্থিক জালিয়াতি করতে বাধ্য করা হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, কাজ করতে রাজি না হলে বা লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে নির্যাতন সেলে নিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হতো এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক ব্যাপক অভিযানের পর চীনা ক্যাম্প পরিচালকেরা পালিয়ে গেলে এই চরম অত্যাচার বন্ধ হয়। মুক্ত হন আটকে পড়া বাংলাদেশিরা।

দালাল অপুর ‘মানবপাচার’ সাম্রাজ্য

ফিরে আসা ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পাচার চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা আব্দুল্লাহ আল মামুন অপু। তিনি ময়মনসিংহের বাসিন্দাম ২০১৫ সালের দিকে বাংলাদেশ ছেড়ে কম্বোডিয়ার নমপেনে স্থায়ী হন। কম্বোডিয়ার পাসপোর্টধারী অপু নিজেকে কম্বোডিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে আইনি নজরদারি এড়িয়ে চলছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই দাবির সত্যতা অস্বীকার করেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে সরকার পতনের পর রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নেন অপু। তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদদের টার্গেট করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। এর ফলে কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশিদের যাওয়ার হার হঠাৎ অনেক বেড়ে যায়। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যও এই বৃদ্ধির প্রমাণ দেয়। তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যেই ২ হাজার ৪০৮ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন।

যেভাবে পাতা হয় ফাঁদ

ভুক্তভোগী মো. তালাত মাহমুদ বায়েজিদ গত ১৫ জুন ঢাকার বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার ও জোরপূর্বক শ্রম আদায়ের অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, একটি সুসংগঠিত চক্র উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে তাকে এই ফাঁদে ফেলেছে। মামলায় ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী ৫০ বছর বয়সী মো. কাউসার হাবিব, কম্বোডিয়া প্রবাসী কুষ্টিয়ার ৩২ বছর বয়সী দালাল মিন্টু এবং নোয়াখালীর ৪২ বছর বয়সী সাইফুলসহ অজ্ঞাত আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, বায়েজিদের এক খালার মাধ্যমে তার সঙ্গে কাউসার হাবিবের পরিচয় হয়। কাউসার ২০২২ সালের আগস্টে বায়েজিদকে কম্বোডিয়ায় প্রতি মাসে ৬ লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেন। এজন্য ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বায়েজিদের সঙ্গে কাউসারের ৭ লাখ টাকার চুক্তি হয়। বায়েজিদ প্রথমে পাসপোর্টের সাথে নগদ এক লাখ টাকা দেন এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাঠান।

২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর বায়েজিদের ফ্লাইটের টিকেট কেনা হয়। এরপর ১ নভেম্বর যাত্রার দিন সকালে বায়েজিদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাউসারের সাথে দেখা করে শেষ কিস্তির এক লাখ ৬০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেন।

কম্বোডিয়া পৌঁছানোর পর ‘বিক্রি’

বায়েজিদ কম্বোডিয়া পৌঁছে তাকে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়েছে জানতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে কাউসারকে মেসেজ দিলে কাউসার তার স্থানীয় সহযোগী মিন্টু ও সাইফুলকে বায়েজিদকে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা তাকে কাজের জায়গায় না নিয়ে “হোটেল রয়্যাল এ ওয়ান”-এ নিয়ে যান এবং সেখান থেকে দ্রুত একটি চীনা সাইবার ক্রাইম সেন্টারের কাছে বিক্রি করে দেন।

সেই বন্দিশালার ভেতরে কো ওয়াং নামের এক চীনা নাগরিক বায়েজিদকে ড্রেন পরিষ্কার করার মতো অত্যন্ত কঠিন শারীরিক পরিশ্রম করতে বাধ্য করেন। বায়েজিদ এতে বাধা দিলে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। বায়েজিদকে জানানো হয়, তাকে ৩ হাজার ডলারে কিনে নেওয়া হয়েছে। টাকা আদায়ের জন্য বায়েজিদের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও কলের মাধ্যমে তার পরিবারকে দেখানো হতো।

ছেলের জীবন বাঁচাতে বায়েজিদের পরিবার চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কো ওয়াংকে ৩ হাজার ডলার মুক্তিপণ দেয়। মুক্তির পর বায়েজিদ একদম নিঃস্ব হয়ে পড়েন। পরে তিনি “জাক মাইগ্রেশন” নামক একটি সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। তাদের সহায়তায় বায়েজিদসহ আরও ৫৩ জন ভুক্তভোগী ২০২৬ সালের ১ জুন কম্বোডিয়া থেকে রওনা হয়ে ঢাকায় পৌঁছান। সেখানে জাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।

মানবপাচারের এক ভয়াবহ নতুন রূপ

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণেই এই যুবকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল সাইবার অপরাধ বা স্ক্যামিং হলো আধুনিক মানবপাচারের একটি ভয়াবহ রূপ। যেহেতু একজন ভুক্তভোগী কঠোর মানবপাচার বিরোধী আইনে মামলা করেছেন, তাই কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা।

শরিফুল হাসান বলেন, সরকারি ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভুক্তভোগীদের ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হলো, সেই স্থানীয় রিক্রুটিং নেটওয়ার্কগুলোকে চিহ্নিত করা জরুরি। এই চক্রগুলো ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে ভুয়া আইটি বা কল সেন্টারের চাকরির লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেয়। এই পরিস্থিতিতে সরকার এবং ব্র্যাকের পক্ষ থেকে নাগরিকদের থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়ার যেকোনো চাকরির প্রস্তাব ভালোভাবে যাচাই করার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব সরকার পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে অভিবাসী কর্মী ও প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্টসেবা আরও সহজ ও সহজলভ্য করতে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে তিনি এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৬ সালের ৪ জুন পর্যন্ত দেশে সক্রিয় পাসপোর্টধারীর সংখ্যা ২ কোটি ৫৪ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩ জন।

তিনি জানান, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ফি কমানোর বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদফতর থেকে প্রাপ্ত একটি প্রস্তাব বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টের আবেদন সহজ করতে বিভিন্ন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে মোবাইল এনরোলমেন্ট কিটের (এমইকে) মাধ্যমে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মিশনগুলোতে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের পাসপোর্টসেবা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পাসপোর্ট দ্রুত পৌঁছে দিতে সরকার আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ফেডএক্সের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতে পাসপোর্ট পাঠাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রেমের টানে শরীয়তপুরে ছুটে এলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরাত নাগরিক

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
প্রেমের টানে শরীয়তপুরে ছুটে এলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরাত নাগরিক

ভালোবাসার টানে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব দুবাই নাগরিক। আর সেই ভালোবাসার পূর্ণতা দিতে বসেছেন বিয়ের পিঁড়িতে। দুবাইয়ের নাগরিক পঞ্চাশোর্ধ্ব সলেমান ও বাংলাদেশি মেয়ে সুবর্ণার (২০) বিয়েতে খুশি পরিবার ও স্থানীয়রা।

সোমবার (১৫ জুন) শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শরীয়তপুরের জাজিরার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা এলাকার বাসিন্দা ফারুক খানের মেয়ে সুবর্ণা দুই বছর আগে কাজের সুবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের আবুধাবিতে যান। সেখানে পার্কে ঘুরতে গিয়ে পরিচয় হয় স্থানীয় পঞ্চাশোর্ধ্ব সলেমানের সঙ্গে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে সুবর্ণা দেশে ফিরলে গত তিন দিন আগে বাংলাদেশে ছুটে আসেন সলেমন। পারস্পরিক ভালোবাসার পর দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আয়োজন করে মেয়ের পরিবার।

গত রোববার রাতে জমকালো গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে সোমবার বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ে উপলক্ষে জামাই সলেমনের নিজ খরচে প্রায় দেড় হাজার আত্মীয় স্বজনদের ভোজের আয়োজন করে সুবর্ণার পরিবার। ভিন্ন দেশের দুই মানুষের ভালোবাসার এমন পরিণতি এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে হঠাৎ করে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন বিয়েতে অনেকে আবার দ্বিমত পোষণ করছে।

১৬ বছরের তরুণীকে বিয়ের আশায় বাংলাদেশে ৩৯ বছর বয়সী চীনা নাগরিক১৬ বছরের তরুণীকে বিয়ের আশায় বাংলাদেশে ৩৯ বছর বয়সী চীনা নাগরিক
সুবর্ণার নানি ফুলজান বিবি বলেন, নাতিন দুবাই গিয়েছিলো। সেখানে বসে তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। সে বাংলাদেশে এসে নাতনিকে বিয়ে করেছে। আমরা অনেক খুশি।

রুবিনা বেগম নামের এক নিকটাত্মীয় বলেন, ‘দুই বছর আগে আমাদের মেয়ে বিদেশ গেছে, সেখান থেকেই এই লোকের সঙ্গে পরিচয়। এখন তারা পছন্দ করে বিয়ে করেছে। আমরা চাই তারা ভালো থাকুক।’

কনে সুবর্ণা বলেন, ‘দুবাই থাকাকালীন তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। এরপর থেকেই সে আমাকে ভালোবাসে। সেই ভালবাসা থেকেই বিয়ে করতে দুবাই থেকে ছুটে এসেছে। নিজের ইচ্ছেতে তাকে বিয়ে করেছি, আমি খুব খুশি।’

তবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি দুবাই থেকে আসা নাগরিক সলেমন। এমনকি মেয়ের বাবা-মাও কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মেদ বলেন, এমন এধরণের কোনো খবর পাইনি। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারবো।

এক প্রবাসীর টাকা, অন্য প্রবাসীর সাথে ঘর;

পাথরঘাটায় ‘প্রতারক’ গৃহবধূর কীর্তিতে তোলপাড়

প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
পাথরঘাটায় ‘প্রতারক’ গৃহবধূর কীর্তিতে তোলপাড়

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় এক প্রবাসী স্বামীর কষ্টার্জিত প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা ও ১১ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের পর জীবিত স্বামীকে মৃত দাবি করে অন্য এক প্রবাসীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক সন্তানের জননী সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার ৭নং কাঠালতলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাকির খানের ছেলে মো. নাঈমের সঙ্গে ২০১৯ সালে পাথরঘাটা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের অপধা দীঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুলের মেয়ে মোসা. সাদিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। ২০২৩ সালে তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের আশায় সন্তানের বয়স মাত্র দুই মাস হওয়ার পর নাঈম কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কোয়েতে পাড়ি জমান। অভিযোগ রয়েছে, স্বামী বিদেশ যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সাদিয়া অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বৈতাম বাপ্তা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. হাসানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়া আক্তার তার প্রথম স্বামী নাঈমকে মৃত বলে পরিচয় দিয়ে নিজেকে বিধবা দাবি করেন এবং ২০২৫ সালের ১৫ জুন কাজী অফিসের মাধ্যমে মো. হাসানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, অভিযোগ অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের কাছেই ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে যোগাযোগ বজায় রাখেন, ফলে প্রথম স্বামী নাঈম বিষয়টি টের পাননি।

নাঈমের পরিবারের দাবি, কোয়েতে অবস্থানকালে তিনি সরল বিশ্বাসে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা পাঠান এবং ১১ ভরি স্বর্ণালংকারও প্রদান করেন। একই সময়ে দ্বিতীয় স্বামী হাসানের কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পরে হাসান কোয়েত গেলে সাদিয়া আবারও অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাঈমের বাবা মো. জাকির খান বলেন, “ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। সে তার উপার্জনের প্রায় সব টাকা স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছে। আজ সেই টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে সে অন্যত্র চলে গেছে। আমরা এই প্রতারণার বিচার চাই।”

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা শুরু থেকেই সাদিয়ার আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নাঈম স্ত্রীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে পরিবারের কথা গুরুত্ব দেননি। এমনকি স্ত্রীর অনুরোধে তাকে গ্রামের বাড়ি থেকে পাথরঘাটা শহরে আলাদা বাসা ভাড়া করে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে অভিযোগ অনুযায়ী তার অবৈধ সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হয়।

এ বিষয়ে কাঠালতলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত পক্ষ নানা টালবাহানা করছে।

তিনি আরও বলেন, “যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে নয়, একজন প্রবাসীর জীবন-সংগ্রাম ও বিশ্বাসের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা। এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রবাসী পরিবার এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হয়।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাদিয়ার মায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন যারা আপনার কাছে অভিযোগ দিয়েছে এব্যাপারে তাদের সাথে কথা বলেন আমি আপনার সাথে কোন কথা বলতে রাজি না।

অভিযুক্ত সাদিয়ার সাথে কথা বলতে চাইলে সাদিয়ার মা সাদিয়াকে কথা বলতে নিষেধ করেন।

যশোরে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
যশোরে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবক গ্রেপ্তার

যশোরের শার্শা উপজেলার ছোট বসন্তপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়া ঘোপ গ্রামের হাসিব আল হাসান (১৯), ছোট বসন্তপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ইমন (২৪) এবং মেহেদি হাসান টুটুল (২৫)। অন্য দুই আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬) ও ইমন (২৪) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন দিবাগত রাতে উপজেলার ছোট বসন্তপুর গ্রামে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের বাইরে বের হন প্রবাসীর স্ত্রী। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

পরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

ওসি মারুফ হোসেন জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক তিন আসামিকে আটকের পর আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।