১৯ জুন ২০২৬

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের আমির; আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী

দোহা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের আমির; আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বিশেষ আমন্ত্রণে গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। মঙ্গলবার ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এর ঐতিহাসিক হোটেল রয়্যালে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি কাতারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর এই জোটের সম্মেলনে জি৭ ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রধান এবং আমন্ত্রিত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেন।

সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ অধিবেশনে অংশ নেন শেখ তামিম।

বৈঠকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় চালু করা এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার চলমান প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা সুসংহত করতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং সংলাপ জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেন বিশ্বনেতারা।

আমিরের সাথে এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল-থানি এবং আমিরি দিওয়ানের প্রধান আব্দুল্লাহ বিন মোহাম্মদ বিন মুবারক আল-খুলাইফি সহ দেশটির শীর্ষ সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

কার্যকরী আলোচনা শেষে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি এবং তাঁর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে বিশ্বনেতাদের সম্মানে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জি৭-এর মতো বৈশ্বিক মঞ্চে কাতারের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য পথ নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে দোহার সুদৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থানেরই প্রমাণ।

কাতারে প্রফেশনাল ট্যুর গাইড হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ! নিবন্ধন শুরু করল ‘কাতার ট্যুরিজম’

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
কাতারে প্রফেশনাল ট্যুর গাইড হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ! নিবন্ধন শুরু করল ‘কাতার ট্যুরিজম’

দেশের পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবং স্থানীয় ও প্রবাসী প্রতিভাদের পেশাদার গাইড হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নিবন্ধন শুরু করেছে কাতার ট্যুরিজম (কিউটি)।

সংস্থার 'সার্ভিস এক্সিলেন্স একাডেমি' এবং 'কাতার ইয়ুথ হোস্টেলস'-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পর্যটন উৎসাহী, তরুণ সমাজ এবং কমিউনিটির সদস্যদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কাতার মিউজিয়ামসের (কিউএম) সহযোগিতায় এতে থাকবে বিশেষ কর্মশালা, ব্যবহারিক কোর্স এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ফিল্ড ভিজিট।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০-এর মানব উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্ব থেকে আসা দর্শনার্থীদের কাছে কাতারের অনন্য ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য একঝাঁক দক্ষ 'পর্যটন রাষ্ট্রদূত' তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

বিভিন্ন বয়স ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এই কর্মসূচীকে কয়েকটি মডিউলে ভাগ করা হয়েছে:

সাধারণ লাইসেন্সিং মডিউল (১৮ বছর বা তার বেশি):

আগামী ৫ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো কাতারি নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা এতে অংশ নিতে পারবেন। এই মডিউলে অবসরপ্রাপ্ত ও প্রবীণদের অংশগ্রহণকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যেন তারা নতুন প্রজন্মের সাথে কাতারের সংস্কৃতি নিয়ে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারেন। সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারীরা কাতার ট্যুরিজমের আনুষ্ঠানিক ট্যুর গাইড লাইসেন্স পাবেন।

ইয়ুথ ট্যুর গাইড প্রোগ্রাম (১৩ থেকে ১৭ বছর):

তরুণ প্রতিভাদের লালনের লক্ষ্যে আগামী ১৮ জুলাই থেকে এই প্রশিক্ষণ শুরু হবে। কাতার মিউজিয়ামসের 'টিন সেন্টার'-এর সহযোগিতায় তরুণদের এই কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ইয়ং ট্যুর গাইড সামার ক্যাম্প (৮ থেকে ১২ বছর):

শিশুদের জন্য 'কিডজমন্ডো'-তে আগামী ১৯ জুলাই থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত এই ক্যাম্পের দ্বিতীয় সংস্করণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ জন করে মোট ৬টি দলে ভাগ করে শিশুদের কাতারের পর্যটন আকর্ষণগুলো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে সফল করতে গত ১৪ জুন থেকে শুরু হয়েছে 'ট্রেইন দ্য ট্রেইনার' নামের একটি বিশেষ প্রোগ্রাম, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এর মাধ্যমে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের একটি দল তৈরি করা হচ্ছে, যারা পরবর্তীতে যুব ও শিশু গাইডদের মেন্টরিং বা পরামর্শ দেবেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাতার ট্যুরিজম এবং কাতার ইয়ুথ হোস্টেলসের এই ধারাবাহিক চতুর্থ যৌথ উদ্যোগের ফলে দেশের পর্যটন খাতে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী মেধা প্রবাহ তৈরি হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা কাতার ট্যুরিজমের নির্ধারিত অনলাইন লিংকের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।

আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদনের সুবিধার্থে নিচে দেওয়া নির্দিষ্ট লিংকের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন:

খাদ্য বিষক্রিয়ার অভিযোগে কাতারে রেস্তোরাঁ বন্ধ করল জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
খাদ্য বিষক্রিয়ার অভিযোগে কাতারে রেস্তোরাঁ বন্ধ করল জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একটি রেস্তোরাঁ ১৫ দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কাতারের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় (এমওপিএইচ)। গত রবিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উক্ত রেস্তোরাঁটির খাবার খেয়ে বিষক্রিয়া হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে একাধিক অভিযোগের তাৎক্ষণিক জবাব দিতে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইতিমধ্যেই জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ দল ওই রেস্তোরাঁ থেকে খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ সম্পন্ন করেছে। এর পাশাপাশি রেস্তোরাঁটির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাস্থ্য মূল্যায়নও সম্পন্ন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। খাদ্যের নমুনার পরীক্ষাগার পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণ এবং জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপগুলোর মূল লক্ষ্য হলো দেশে খাদ্য সুরক্ষার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ না করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, কাতার সরকারের আইনি বিধিবিধান অনুসারে কোনো প্রতিষ্ঠানের আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জারি না হওয়া পর্যন্ত নাম প্রকাশ করা হয় না। তদন্ত চলাকালীন গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনসাধারণের প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য সতর্কতার সাথে যাচাই করার এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে। এর পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত যেকোনো উদ্বেগ বা অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্য খাতের সমন্বিত কল সেন্টার ‘১৬০০০’-এ যোগাযোগ করে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য দেশটির বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে।

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের আমির; আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী

দোহা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের আমির; আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বিশেষ আমন্ত্রণে গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। মঙ্গলবার ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এর ঐতিহাসিক হোটেল রয়্যালে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি কাতারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর এই জোটের সম্মেলনে জি৭ ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রধান এবং আমন্ত্রিত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেন।

সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ অধিবেশনে অংশ নেন শেখ তামিম।

বৈঠকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় চালু করা এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার চলমান প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা সুসংহত করতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং সংলাপ জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেন বিশ্বনেতারা।

আমিরের সাথে এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল-থানি এবং আমিরি দিওয়ানের প্রধান আব্দুল্লাহ বিন মোহাম্মদ বিন মুবারক আল-খুলাইফি সহ দেশটির শীর্ষ সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

কার্যকরী আলোচনা শেষে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি এবং তাঁর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে বিশ্বনেতাদের সম্মানে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জি৭-এর মতো বৈশ্বিক মঞ্চে কাতারের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য পথ নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে দোহার সুদৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থানেরই প্রমাণ।

কাতারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ডোনাল্ড ট্রাম্প!

আমিরের সঙ্গে বৈঠকে দোহার ‘সাহসিকতা’ ও মধ্যস্থতার ভূয়সী প্রশংসা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
আমিরের সঙ্গে বৈঠকে দোহার ‘সাহসিকতা’ ও মধ্যস্থতার ভূয়সী প্রশংসা
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফ্রান্সে চলমান জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুই নেতাই মার্কিন-ইরান চুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশেষ করে তিনি নিজে পাশে না থাকলে আজ ইসরাইলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত, তবে ইসরাইল পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যেত উল্লেখ করে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে ছিল। তবে চলমান যুদ্ধ ইরানের পূর্ববর্তী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ইরানে এখন একটি যৌক্তিক ও বুদ্ধিমান নেতৃত্ব রয়েছে।

নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ ও সিরিয়াকে নিয়ে নতুন পরামর্শ

লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ভূমিকার সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘লেবাননের ব্যাপারে নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ ইরানের সাথে চুক্তি ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বৈরুতে ইসরাইলি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বৈরুতে হামলাটি একেবারেই পছন্দ করিনি এবং আমি তাঁদের (ইসরাইল) সেটা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি।’

লেবানন পরিস্থিতিকে একটি ‘ছোটখাটো যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প ইসরাইলকে একটি অদ্ভুত পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইসরাইলকে পরামর্শ দিয়েছি যেন হিজবুল্লাহর বিষয়টি সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, কারণ তারা এই কাজটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।’

কাতারের প্রশংসা ও আমিরের প্রতিক্রিয়া

বৈঠকে কাতারের ‘সাহসিকতা’ এবং মধ্যস্থতার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘কাতার যেভাবে পুরো পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে, তাতে আমরা অত্যন্ত মুগ্ধ। তারা অত্যন্ত শক্ত ও দৃঢ় অবস্থান দেখিয়েছে।’

অন্যদিকে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এই মার্কিন-ইরান চুক্তিকে এই অঞ্চলের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এখনও অনেক কাজ বাকি আছে, তবে এই গতি যদি বজায় থাকে, তবে আমরা এই অঞ্চলে দারুণ কিছু অর্জন করতে পারব।’

‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সহায়তায় সবসময় পাশে থাকবে কাতার’

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সহায়তায় সবসময় পাশে থাকবে কাতার’
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি ইরানের জন্যও সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পর থেকে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে শেখ তামিম বলেন, যখনই আমাদের বন্ধু ও অংশীদাররা সহযোগিতা চায়, কাতার তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত থাকে।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, চলমান সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিকল্প নেই এবং কাতার এ ধরনের উদ্যোগে ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

এছাড়াও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগের মতো স্থিতিশীল পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে কাতার। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার তার কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে এবং সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাতার এখনও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা বজায় রেখে চুক্তির সব শর্ত কার্যকর করতে দেশটি কাজ করে যাচ্ছে।

তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকার পরও গাজায় গণহত্যা পুরোপুরি থামেনি। গত বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলছে।